জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আলোচনা ও দোয়া মহাফিলে ছেলুন জোয়ার্দ্দার এমপি

১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের পর শুরু হয় ইতিহাসের উল্টো পথে যাত্রা


স্টাফ রিপোর্টারঃ:চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠন মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তারিই ধারাবাহিকতায় ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মহাফিল’র আয়োজন করা হয়।

গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার সময় চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মহাফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভা ও দোয়ামহাফিলে চুয়াডাঙ্গা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাফিয়া বেগম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি বলেন,১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের পর শুরু হয় ইতিহাসের উল্টো পথে যাত্রা। ফিরে আসে পাকিস্তানি ভাবাদর্শের প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির ধারা। জাতীয় জীবন ও রাষ্ট্রীয় পরিসর থেকে নির্বাসিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ।

এসময় বঙ্গবন্ধু এবং ১৫ই আগস্ট ও ২১শে আগস্ট শহীদ সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানকে নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় তখন সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় হাওয়া ভবনের পরিচালনায় সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত গ্রেনেড দিয়ে ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর নিজের হাতে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল এবং এ বিষয়ে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, ফাঁসিপ্রাপ্ত উপমন্ত্রী আব্দুস সালামের উপস্থিতিতে হাওয়া ভবনের বৈঠকে কিভাবে পরিকল্পনা হয়েছে সব আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট।’

‘দেশটাকে তারা (বিএনপি) কোন জায়গায় নিয়ে যেতে চায়’ প্রশ্ন রেখে সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি বলেন, ‘আজকেও দেখুন যে, তালেবান যখন কাবুল দখল করলো তখন ডা. জাফরুল্লাহ কি বললেন! ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই দেশটাকে তারা জঙ্গিদের অভয়রাণ্য বানিয়েছিল। তাদের মাধ্যমেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করেছিল, কিবরিয়া সাহেব, আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করেছিল, বিভিন্ন জায়গা গ্রেনেড হামলা, বোমা হামলা করেছিল। অর্থাৎ বিএনপি জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। যারা এই রাজনীতি করে তারা কখনো দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। বিএনপি-জামাত এবং সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর এ ধরণের জিঘাংসার অপরাজনীতি যদি বন্ধ না হয় তাহলে আমাদের দেশে রাজনীতি কখনোই পরিশুদ্ধ হবে না।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণার পাঠককে স্বাধীনতার ঘোষক বানানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। ইতিহাসের ফুটনোট জিয়াউর রহমানকে ইতিহাসের নায়ক বানানোর ব্যর্থ চেষ্টাও করা হয়।

সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহবান জানিয়ে

তিনি আরো বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদেরকে নিবেদিত প্রাণ হতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুব লীগ নেতা আব্দুল কাদের এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক এ্যাড: আবু তালেব, উপ-প্রচার সম্পাদক শওকত আলি বিশ্বাস, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন হেলা, জাতীয় শ্রমিক লীগ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি আফজালুল হক বিশ্বাস, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা নুরুন্নাহার কাকলী, জাতীয় মহিলা সংস্থা চুয়াডাঙ্গার চেয়ারম্যান নাবিলা রুকসানা ছন্দা, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহাজাদী মিলি, সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেফালী বেগম, মহিলা নেত্রী ফরিদা ইয়াছমিন রিনা, শাহনেওয়াজ দুরি, আছিয়া বেগম, দিলরুবা খুকু, ময়না খাতুন, আলমডাঙ্গা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহিদা বেগম, জীবননগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আয়েশা সুলতানা লাকি ও সাধারণ সম্পাদক রিজিয়া বেগম, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া সাহাব, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক আহবায়ক আরেফিন আলম রঞ্জু, জেলা যুবলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম আসমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুব লীগ নেতা আব্দুর রশিদ, টুটুল,চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো: শাহাবুল হোসেন, সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

১৫ই আগষ্টে জাতির পিতা সহ তার পরিবারের যে সকল ব্যাক্তিরা শাহাদাৎ বরণ করেছেন এবং সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত দোয়া অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মাসুদউজ্জামান লিটু।