স্ত্রীকে হত্যার পর দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে ধরা খেলেন স্বামী!

ঢাকা প্রতিনিধি:রাজধানীর গুলশানের বাসায় রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়া স্ত্রীকে প্রাইভেটকারে তুলে হাতিরঝিলে দুর্ঘটনার নাটক সাজানোর অভিযোগে সাকিবুল আলম মিশু (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে। নিহত নারীর নাম ঝিলিক আলম (২৩)। শনিবার (৩ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনায় মিশুকে আটক করে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। পরে তাকে গুলশান থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ শনিবার রাতে মিশুকে গ্রেফতার দেখায়।

গ্রেফতারকৃত মিশু শিল্পপতি জাহাঙ্গীর আলমের বড় ছেলে। এ ঘটনায় ঝিলিকের মা তাহমিনা হোসেন আসমা বাদি হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, ‘আমরা বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখছি। ঝিলিকের স্বামী মিশুসহ দুই জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম রয়েছে। এটা হত্যাকাণ্ড না দুর্ঘটনা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে একটু সময় লাগবে।’

হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে হাতিরঝিলের আমবাগান এলাকায় একটি প্রাইভেটকার দুর্ঘটনার খবর পান। সেখানে গিয়ে আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লাগা একটি প্রাইভেটকার থেকে একজন পুরুষ ও একজন নারীকে উদ্ধার করা হয়। দুই জনকেই হাসপাতালে নেওয়ার পর বেলা ১১টার দিকে ঝিলিককে মৃত ঘোষণা করা হয়। গাড়িটি মিশু নিজেই চালাচ্ছিল। পরে মিশুকে আটক করা হয়।’

মিশু পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি ডাক্তার দেখাতে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন এবং তিনিও আহত হন। পরে ঝিলিককে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর তিনি ঐ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন।

নিহতের মা তাহমিনা হোসেন আসমা বলেন, ‘আমার স্বামী (ঝিলিকের বাবা) আনোয়ার হোসেন এক বছর আগে মারা গেছেন। তাদের তিন মেয়ে এবং এক ছেলে। আমি অন্য সন্তানদের নিয়ে মোহাম্মদপুরে থাকি। ঝিলিক ও মিশু ভালোবেসে ২০১৮ সালে বিয়ে করে। মিশুদের আর্থিক অবস্থা ভালো। তার তুলনায় আমাদের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা কম।’ তিনি বলেন, মিশু তার শিল্পপতি বাবার টাকায় চলতো। সে মাদকাসক্ত ও বেকার জীবন-যাপন করতো। বাসায় খাওয়া পরা নিয়ে ঝিলিককে প্রায়শই খোটা দিত এবং নানাভাবে নির্যাতন করতো। ঝিলিকের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাসায় স্বামীসহ আত্মীয়রা ছিলেন। এই অবস্থায় শুক্রবার রাতে ঝিলিককে মারধর করে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক সাজানো হয়েছে।’ নিহতের দেবর ফাহিম জানান, বাসাতেই ঝিলিকের মৃত্যু হয়েছে। তার বড় ভাই কেন দুর্ঘটনার কথা বলেছেন, তা তার জানা নেই। কি কারণে মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে মুখ খোলেননি ফাহিম।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ঝিলিকের ছোট ভাই জাবির হোসেন বলেন, সকালে ঝিলিকের স্বামী মা আসমা বেগমকে ফোন দিয়ে জানান ঝিলিক মারা গেছেন।

গুলশান পুলিশ ঝিলিকের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত সোমবার করা হবে।