মোবাইল কেনার টাকা কম দেয়ায় উশৃঙ্খল জামায়ের ছুরিকাঘাতে শ্বশুর-শাশুড়ি জখম

 

স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টাঃআশঙ্কাজনক অবস্থায় শ্বাশুড়ি রিক্তাকে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড

 

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হায়দারপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান (৬৭) ও তার স্ত্রী রিক্তা খাতুনকে (৫০) ছরিকাঘাতে জখম করেছে তাদেরই জামাই আরিফ হোসেন। গতকাল বুধবার রাতে সদর উপজেলার জাফরপুর গ্রামে আসিফের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। জামাই আরিফকে মোবাইল কেনার টাকা কম দেয়াকে কেন্দ্র করে তাদেরকে উপযূপরি ছুরি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আরিফ তার স্ত্রী মীমকে (২৫) গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে এবং না পেরে তাকেও পিটিয়ে আহত করেছে। আহতদের মধ্যে রিক্তা খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
আহত আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, বছর দুই আগে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার জাফরপুর গ্রামের জাহিদের ছেলে আরিফের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় মীমের। বিয়ের পর থেকেই আরিফের উশৃঙ্খল জীবনের কথা প্রকাশ পায়। আরিফ প্রায় মীমকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। এ কারনেই ৩ মাস আগে আরিফকে তালাক দেয় মীম। ভালো হওয়ায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিন ১৫ আগে আরিফ পুনরায় মীমকে বিয়ে করে। গতকাল পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে মীমের সাথে আরিফের কথা কাটাকাটি হয়। এরই একপর্যায়ে আরিফ তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি আছড়ে ভেঙে ফেলে। আরিফ দাবি করে মীমকে বলে, তোমার সাথে গন্ডগোলের কারনে মোবাইল ফোন ভেঙেছি তাই তোমার বাবার বাড়ি থেকে একটা নতুন মোবাইল ফোন কিনে দিতে হবে। আরিফ ২০ হাজার টাকা দাবি করে মীমের বাবা আব্দুল মান্নানের কাছে। গতকাল রাতে আব্দুল মান্নান ও তার স্ত্রী রিক্তা খাতুন ১৫ হাজার টাকা নিয়ে আরিফের বাড়ি জাফরপুর যায়। বাদিকৃত ২০ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা কম দেয়ায় আব্দুল মান্নানের সাথে আরিফের কথা কাটাকাটি হয়। এরই এপর্যায়ে আরিফ ছুরি দিয়ে আব্দুল মান্নান ও রিক্তা খাতুনকে আঘত করে। এরপর মীমকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করে এবং না পেওে তাকে পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাখে।
এদিকে, রাত ১০ টার দিকে আহত রিক্তা খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে সেখানে যায় সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফাতেহ্ আকরাম। তিনি আহত রিক্তা খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। বুধবার রাতেই জরুরি ভিত্তিতে রিক্তা খাতুনকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রাজশাহী নেয়া হয়েছে। গতকাল রাত পৌনে ২ টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রিক্তা খাতুনকে বহন করা অ্যাম্বুলেন্সটি রাজশাহীর পথে বনপাড়া পার হচ্ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। অবিযুক্ত আরিফকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।