আলমডাঙ্গা অফিসঃআলমডাঙ্গার জামজামি বাজারের আব্দুর রহমান নামের এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে আটক করেছে বগুড়া পুলিশ। লিবিয়ায় প্রবাসীদের অপহরণের পর আদায় করা  মুক্তিপণের  টাকা ওই বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে গ্রহণ করা হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে । এসময় ওই চক্রের লিবিয়া ফেরৎ সদস্য আলমগীরকেও ইবির রসুনপুর  থেকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, লিবিয়ায় বাংলাদেশের একটি অপহরণ চক্র বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় যাওয় বিভিন্ন জেলার ৮ জনকে অপহরণ করে।অপহরের পর তাদের অমানবিক অত্যাচার করে সেই ভিডিও পরিবারের লোকদের কাছে পাঠিয়ে ৮ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে।দাবীকৃত টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধের কথা বলা হয়। বাংলাদেশের বগুড়া জেলার আদমদিঘির একজনের পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে একটি বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়।  ওই নম্বরে ৪০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করে ওই পরিবারের সদস্যরা। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। বগুড়ার আদমদিঘি ও দুপচাপিয়া পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে জানতে পারেন বিকাশ নম্বরের ওই মোবাইল অপারেটর আলমডাঙ্গা উপজেলার মধ্যে অবস্থান করছে। গতকাল শনিবার  বগুড়া আদমদীঘি ও দুপচাপিয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার কে এইচ এম এরশাদ,এস আই আব্দুস সালাম আসামী ধরতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের সহযোগিতা চান। আলমডাঙ্গা থানার  এস আই সুব্রতকে সাথে নিয়ে অভিযান চালিয়ে জামজামি বাজার থেকে বিকাশ ব্যবসায়ি কুষ্টিয়া ইবি থানার রসুনপুর গ্রামের তারাচান্দ মল্লিকের ছেলে আব্দুর রহমানকে আটক করে। আব্দুর রহমানের স্বীকারোক্তিতে পরে লিবিয়া ফেরত অপহরণ চক্রের অন্যতম সদস্য একই গ্রামের মৃত মকছেদ আলীর ছেলে আলমগীর কে আটক করে।  আটক দু”জনই ওই চক্রের সদস্য বলে পুলিশ জানায়। পরে তাদেরআলমডাঙ্গা থানায় নিয়ে আনা হয়। তাদের কাছ থেকে ৬ টি বিকাশ নম্বার,৩ টি মোবাইল সেট জব্দ করে।সহকারি পুলিশ সুপার কে এইচ এম এরশাদ জানান,যে মোবাইলে লিবিয়ায় অপহরণ চক্রের সদস্য বাবুর সাথে বহুবার কথা হয়েছে। কি ভাবে টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাঠাবে সেই কললিস্টে পাওয়া গেছে।পুলিশের ধারনা সম্প্রতি লিবিয়া মানব পাচারকারি চক্র যে হত্যা যজ্ঞ চালিয়েছিল এরা সেই চক্রের সদস্য।আটক দু’জনকে বগুড়া আদমদীঘির  পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যান।