করোনার সংক্রমন রোধে কাল সোমবার থেকে সারাদেশে একযোগে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন ঘোষণা

“লকডাউন” হচ্ছে শুনেই চুয়াডাঙ্গার নিত্যপর্ণের বাজারে আতঙ্কের কেনাকাটা

★হটাৎ শহরে বাড়তে শুরু করে মানুষের আনাগোনা

★বাড়তি পণ্য কিনে ফিরছেন ঘরে

★একই সাথে সারছেন ঈদের কেনাকাটা


আহসান আলম:দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে আগামীকাল সোমবার থেকে সাত দিনের জন্য সারাদেশে একসাথে লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এ মন্তব্যের পরপরই দুপুর থেকে চুয়াডাঙ্গা শহরের দৃশ্য পাল্টাতে শুরু করে। হঠাৎ শহরে মানুষের আনাগোনা বাড়তে শুরু করে দেয়।
জানা যায়,লকডাউনের খবরে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন বাজারে আতঙ্কের কেনাকাটা বা প্যানিক বায়িং শুরু হয়ে গেছে। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে ভিড় করছে। কেউ কেউ একসঙ্গে বাড়তি পরিমাণ পণ্য কিনে ঘরে ফিরছেন। লকডাউন পরিস্থিতির বিবেচনা করে অনেক মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মজুদ শুরু করেছেন। শহরের বাজারগুলোতে লোকজনের প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। লকডাউনের খবরে রমজান মাসের এবং সেই সাথে ঈদের কেনাকাটাও সেরেছেন কেউ কেউ।


শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার, নিউ মার্কেটসহ সবগুলো মার্কেটে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় দেখা গেছে। বেশিরভাগ মানুষ সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য—চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ ও আলু কিনছিলেন। অনেককে নিউ মার্কেটসহ অন্যান্য মার্কেটের দোকানগুলোতে শাড়ী-কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপর কিনতে দেখা গেছে।
চুয়াডাঙ্গার বড়বাজার নীচের বাজারের পাইকারি কাঁচা বাজারে বড় বড় ব্যাগ নিয়ে অনেককে বাজার করতে দেখা গেছে।
চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ের মেহেদী হাসান জানান, তিনি পাইকারী কাঁচা বাজার থেকে আলু কিনেছেন ৩০ কেজি, পিয়াজ ১৫ কেজি এবং রসুন কিনেছেন ২ কেজি। সামনে রমজান তারপর আবার লকডাউন। যদি নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। সেকারনে তিনি একবারে সব কিনে রাখলেন।
এদিকে শনিবার বেলা ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার কাঁচাবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ কেউ সাতদিন কিংবা পনের দিনের জন্য পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ বাজারে ক্রেতার চাপ বেড়ে যাওয়াতে কাঁচা তরকারিসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্য পণ্যে কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা করে বেশি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। যা আগের দিনের তুলনায় ৫ থেকে ৬ টাকা বেশি। পিয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেক ৩৭ টাকা, বেগুন বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, শশা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, আলু ১৫ থেকে ১৬ টাকা,লালশাক ১০ টাকা আটি। যা আগের দিন বা গতকাল সকালের চেয়ে কেজি প্রতি কয়েক টাকা বেশি।
অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গার সমবায় নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ করা গেছে। সাহাবুল নামের এক ক্রেতা জানান, গতবার করোনার কারনে ঠিকমতো মার্কেট করতে পারিনি। এবারও যদি একই পরিস্থিতি হয়। তাই লকডাউনের খবরে আগে থেকেই যতদুর সম্ভব কিনে রাখছি।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল শনিবার সকালে প্রথম ‘লকডাউনের’ খবর জানান। এরপর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ‘লকডাউনের’ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বাজারে ভিড় বাড়তে শুরু করে বেলা দুইটার পর থেকে।