মেহেরপুরে সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ
গাংনী অফিসঃমেহেরপুর প্রতিনিধিঃ মেহেরপুরের ফতেপুরে রাতের অন্ধকারে ভৈরব নদের পাড়ের মাটি অবৈধভাবে বিক্রির হোতা বুড়িপোতা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মিলনের নেতৃত্বে গ্রামবাসীর বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনার সংবাদ পরিবেশন করায় দৈনিক গণকন্ঠ ও দৈনিক সময়ের সমীকরণের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল মেহেরপুর প্রেসের প্রকাশক ও সম্পাদক মিজানুর রহমান জনিকে চাঁদাবাজির মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত।
আজ রবিবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন রেজার আদালতে মিজানুর রহমান জনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে তাকে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
আদালত থেকে সাংবাদিক জনিকে হাতকড়া পরিয়ে জিআরও পুলিশের হেফাজতে ও পরে সেখান থেকে জেল হাজতে নেওয়া হয়। এসময় সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে ভিডিও ধারণে বাঁধা দেয় কোর্ট (জিআরও) পুলিশ।
উল্লেখ্য গত ১৬ এপ্রিল মেহেরপুরের ফতেপুরে রাতের অন্ধকারে ভৈরব নদের পাড়ের মাটি বিক্রির সময় মেহেরপুর প্রেসের অনলাইন পেজ থেকে মাটি বিক্রির লাইভে গ্রামবাসীরাও বক্তব্য দিয়েছিল। এরপর  ১৭ ও ১৮ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাটি বিক্রির সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বুড়িপোতা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মিলনের নেতৃত্বে যারা লাইভে বক্তব্য দিয়েছিল তাদের বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। বাড়িঘর ভাংচুরের সংবাদও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু সেইসময় বাড়িঘর ভাংচুরের অভিযোগটি মেহেরপুর সদর থানা আমলে নেয়নি। পরে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অন্য সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে মিজানুর রহমান সহ যাদের বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে ফতেপুর গ্রামের দিনমজুর তবিরুল ইসলাম টাবু বাদী হয়ে দঃবিঃ ১৪৩/ ৩২৩/ ৩৮৫/ ৫০৬/ ৩৪ ধারায় মেহেরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাটি সদর থানা আমলে নেয়। যার মামলা নং- ১৯। মামলার অপর আসামীরা হলেন মহাসিন, মফিজুর রহমান, ইসরাফিল হোসেন, লাল্টু, আরিফুল এবং সাইদুর রহমান। তবিরুল ইসলাম টাবু এজাহারে উল্লেখ করেছেন আসামীরা এক্সক্লাভেটর চালক সজীব ও সহকারী আব্দুল কুদ্দুসের নিকট ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই সময় তারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে চালক ও সহযোগীকে মারধর করে। কিন্তু সাংবাদিকরা এই মামলার বাদী তবিরুল ইসলাম টাবুকে প্রশ্ন করেন আপনি কি কারণে এই মামলা করেছেন উত্তরে তিনি বলেন আমি জানিনা। সাংবাদিকরা তখন তাকে বলেন আপনি এই মামলার বাদী অথচ আপনি আসামিদের অপরাধ জানেননা এটা কেমন কথা। তখন মিলন মেম্বার বলেন, বিশ্বাস পাড়ার মনিরুল ইসলাম মনির ছেলে অটো চালক মুন্নার স্বীকারুক্তির উপর ডিফেন্স করে মামলা হয়েছে। এসময় তার পরিচয় জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন তিনি। অথচ এই মুন্না প্রথম লাইভে মাটি কাটার বিপক্ষে কথা বলেন এবং পরের লাইভে সে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ করেন যা লাইভে সবাই দেখেছে। অথচ এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে জেলহাজতে প্রেরণের দৃশ্য দেখে মেহেরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতিক স্বপন বলেন, এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্তইনা বাদী। কারণ বাদী জানেনা মামলার আসামীদের অপরাধ। অথচ এই মামলায় সাংবাদিক জনির জামিন না হয়ে জেল হাজতে প্রেরণ দুঃখজনক। এই ঘটনার লাইভ ভৈরব নদের পাড়ের কিন্তু ঘটনা ঢাকাচাপা দিতে জেলা প্রসাশক ও জনপ্রসাশন প্রতিমন্ত্রীর আস্থাভাজন প্রফেসর হাসানুজ্জামান মালেকের মত সম্মানিত ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে মরাগাং এর নাটক সাজিয়ে অন্য দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে মিলন মেম্বার। তদন্ত হওয়া দরকার কে এই মিলন মেম্বার, এর অবৈধ কর্মকান্ডের পেছনের শক্তি কারা।