মানুষের জীবন আগে বাঁচাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা প্রতিনিধি:করোনা মহামারি থেকে বাঁচতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষের জীবন আগে বাঁচাতে হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিয়ম-নীতি মেনে নিজেকে ও অন্যকে সুরক্ষা করতে হবে।’

রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের নবনির্মিত ২০তলা ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যবিধি যাতে সবাই মেনে চলে সেজন্য দায়িত্বরতদের প্রতি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার সময়ও আমরা অর্থনীতির গতি সচল রাখতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে মাত্র সাড়ে তিন বছরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বল্পোন্নত দেশে রূপান্তর করেছিলেন। বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচলার ফলে সেখান থেকে বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।’

দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি, এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। সেটা রাখতে হলে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং করোনা মোকাবিলা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একযুগ আগের আর বর্তমানের বাংলাদেশের অনেক তফাৎ রয়েছে। এক সময় বিশেষ করে যারা পঁচাত্তর পরবর্তীতে ক্ষমতায় ছিলেন তারা বাংলাদেশ ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করেছিলেন।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন উল্লেখ করে এনএসআই সদস্যদের শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা বিষয় আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে যে আমরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি এবং এইসব ব্যাপারে আপনাদের সদা সতর্ক থাকতে হবে, যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের জানমাল রক্ষা করা, জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যা যা করণীয় সেটা আপনাদের করতে হবে।’

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকও যুক্ত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) প্রধান কার্যালয় প্রান্তে সংস্থার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল টিএম জোবায়েরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।