স্টাফ রিপোর্টার: ‘যে সমাজের মানুষ তাদের অধিকার সম্পর্কে যতোটা সচেতন, সেই সমাজের মানবাধিকার ততোটাই সংরক্ষিত। আমাদের সমাজে সচেতনতায় এখনও ঘাটতি রয়েছে বলেই একের অধিকার অন্যের অনাধিকার হস্তক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়।’
চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহা. রবিউল আলম উপরোক্ত অভিমত ব্যক্ত করে সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জেলা ও দায়রা জজ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মানবাধিকার সুরক্ষায় সচেনতা ও আইনগত সহায়তা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি আহ্বান জানান। ব্রাক মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা চীফ জুডিসিয়াল মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরীন, জেলা জজ আদালতের পিপি বেলাল হোসেন, জেলা সমাজ সেবা অধিদফতরের উপ পরিচালক সন্তোষ কুমার নাথ, জেল সুপার ফিরোজ হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাজী মোল্লা আব্দুর রশিদ, ব্র্যাক প্যানেল আইনজীবী আলমগীর হোসনে, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবসভাপতি সরদার আল আমিন প্রমুখ মতামত পেশ করেন। ব্র্যাক’র মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাধন কুমার নন্দীর উপস্থাপিত মতবিনিময় সভায় কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন কাজী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল হক ও গীতা পাঠ করেন ইন্দ্রজীত কুমার সান্যাল। শুভেচ্ছা বক্তব্য উপস্থপন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ব্র্যাক সমন্বয়ক ফারুক আহম্মেদ।
মতবিনিময় সভার সভাপতি সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহা. রবিউল ইসলাম বলেন, দেশে সরকারে উন্নয়ন করছে। সরকারের পাশাপাশি কিছু বেসরকারি উন্নয়নমূলক সংস্থাও কাজ করছে। এনজিও ব্র্যাক তৃণমূল পর্যায়ে অধিকার ও আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইন সহায়তা প্রদানের যে কর্মসূচি হাতে নিয়ে বাস্তবায়ন করছে তা সমাজের জন্য মঙ্গল। সিনিয়র চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর বক্তব্যে অভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করে সর্বস্তরে কর্তব্যরত সকলকে সচেতনতা সৃষ্টির তাগিদ দেন। মতবিনিময় সভায় ব্র্যাক সমন্বয়ক ব্র্যাকের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মাইক্রোফাইন্যান্স, শিক্ষা, সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়স্ত্রণ কর্মসূচি, স্বাস্খ্য পুষ্টি ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচি, এ্আই কর্মসূচি এবং মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচি। ব্র্যাক একটি বেসরকারি উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান। ব্র্যাকের মূল কর্মসূচির মধ্যে একটি হলো মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচি। মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচি ১৯৮৬ সাল থেকে আইনশিক্ষা ক্লাস ও মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ১৯৯৮ সাল থেকে দরিদ্র, অসহায় ও নির্যাতিত ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা প্রদান করে আসছে। এই কর্মসূচি বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি আইন সহায়তা কর্মসূচি। বাংলাদেশের ৬১টি জেলার অধীনে ৪১০ টি আইন সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ও আইনের আশ্রয়বঞ্চিত মানুষকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি ভিকটিমকে উদ্ধার, কাউন্সিলিং, পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রেরণ, ঘটনার তথ্যানুসন্ধান এবং পুনর্বাসনে সহযোগিতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্র্যাক মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দরিদ্র মানুষকে আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য ৬১টি জেলায় প্রায় ৩৫০ জন ব্র্যাক প্যানেল আইনজীবী নিয়োজিত আছেন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টি, মানবাধিকার নিশ্চিত করা, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, প্রচলিত আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, সর্বোপরি একটি সুশীল সমাজ গড়বার লক্ষ্যেই ব্র্যাকের মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচি কাজ করে যাচ্ছে। এই কর্মসূচি কেবল আইনি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, বৈচারিক সুরক্ষা জাগ্রত করার বিষয়েও অঙ্গীকারবদ্ধ।
মতবিনিময় সভায় চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুসরাত জেরিন, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. বজলুর রহমান, সিনিয়র সহকারী জজ ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শামসুজ্জামান, সিনিয়র সহকারী জজ সদর মো. ছানাউল্লাহ, নিনিয়র জডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর, মানিক দাস, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম পাপিয়া নাগ, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারিয়া নোশীন বর্ণী, সহকারী জজ নাজমিন আক্তার, সহকারী জজ মো. আরমান হোসেন, সহকারী জজ নীল খাতুন, জিপি খন্দকার নাসির উদ্দীন মঞ্জু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার, মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা উপ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মাকসুরা জান্নাত প্রমুখ উপস্থত ছিলেন।