স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন নিয়ে শেষ মুহুর্তের প্রচারণা জমে উঠেছে। আগামী ২ ডিসেম্বর বুধবার অনুষ্ঠিত হবে ভোট। এদিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্যদিয়ে পছন্দের নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।
এদিকে রশিদ-শাহান প্যানেলের পক্ষে শহিদুল ইসলাম শাহান তাঁর মেয়াদকালে নেওয়া উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড বিষয়ে সরাসরি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তুলে ধরেছেন উল্লেখযোগ্য অংশ। আগামী উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
শাহান জানান ,মানবসেবায় অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সারাদেশেই রয়েছে বিশেষ পরিচিতি। গত বছরের ২ অক্টোবর সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পর তিনি কমিটির সদস্যদেরকে নিয়ে একের পর এক উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজ করে আমূল পরিবর্তন করেছেন।
রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির তহবিল থেকে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৬০০ টাকা ও সুইস রেড ক্রস থেকে ১৬ লাখ ৪ হাজার ৪০০টাকা সর্বমোট ২৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকার বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম কোয়ার্টারের ৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা হাতে পাওয়া গেছে। যা দিয়ে চক্ষু হাসপাতালের জন্য সিসি ক্যামেরা, আইপিএস ,একটি এ-স্ক্যান মেশিন, একটি রেটিনোস্কোপ,একটি অপথালমোস্কোপ কেনা হয়েছে।
যুব রেডক্রিসেন্টকে সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রেখেছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত যুব রেডক্রিসেন্ট সদস্য শাবনুর খাতুনের উন্নত চিকিৎসার জন্য ৯৩ হাজার ৬৪০ টাকা প্রদান এবং যুব রেডক্রস সদস্যদের জন্য এক লাখ টাকা ব্যয়ে ল্যাপটপ ও পর্দাসহ মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১১ জন যুব রেডক্রিসেন্ট সদস্যদের (মহিলা) নিয়ে ও স্কুল পর্যায়ে দুই দিনব্যাপী ঋতুস্রাবকালীন সচেতনতা বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে আজীবন সদস্যদের আরসি আরসি বেসিক ওরিয়েন্টেশন, উপজেলা পর্যায়ে যুব রেড ক্রিসেন্ট দল গঠন সেশন,তহবিল বৃদ্ধিতে বিশেষ বৈঠক , ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে আজীবন সদস্যদের অন্তর্ভূক্তিকরন, ইউনিটের ওয়েবসাইট ডিজাইন, ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী পালন, জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকি উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তঃর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, দূর্যোগ প্রশমন দিবস, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস পালনসহ জাতীয় দিবসসমুহ এবং রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে আগত অংশগ্রহনকারীদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
শাহান বলেন,‘আমাদের সেবামূলক কাজে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। জেলা পরিষদের অর্থায়নে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে চক্ষু হাসপাতাল ভবনের তৃতীয়তলা উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ওয়েভ ফাউন্ডেশন সাতজন চক্ষু রোগীর অপরেশনের জন্য ২৪ হাজার ৫০০ টাকা খরচ প্রদান করেছেন। যাদের মধ্যে আয়কর আইনজীবী ওয়ালিউল আকরাম সুজন চক্ষু হাসপাতালের জন্য একটি ইলেকট্রিক পানির ফিল্টার, মালিক টাওয়ারের স্বত্ত্বাধিকারী হাফিজ মালিক তিন সিটের চায়না স্টিল চেয়ার,ইদ্রিস আলী ফ্যান ক্রয়ের জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা এবং এ্যাড. এ্যাড. নাসিম উদ্দীন একটি কাঠের আলমারী দান করেছেন।
রেডক্রিসেন্ট বর্তমান পরিষদের সদস্যরা জানান , চলমান করোনাকালে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সদর থেকে থেকে পাঠানো চুয়াডাঙ্গা ইউনিট মানবসেবায় ভূমিকা রেখেছে। ৩০০০ পিস মাস্ক, ২৮৮ পিস সাবান, ১০০ মিলিমিটার সাইজের ২০০ বোতলহ্যান্ড স্যানিটাইজার, ১৫০প্যাকেট হাইজিন কিট , ৯ হাজার ৬০০ বোতল ৫০০ এমএল ও ২ হাজার ৪০০ বোতল দুই লিটার সাইজের নিরাপদ পানি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কাযার্লয়, সদর হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস, সদর থানা, এতিম খানা ও সেনা বাহিনী ক্যাম্পে বিতরন করা হয়েছে । যুব স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সারা জেলায় জীবাণুনাশক স্প্রে ও লিফলেট বিতরন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারেও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রবেশ ও বাহির পথে হাত ও পা ধোয়ার মনিটরিং কাজ সম্পাদিত হয়েছে। করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) চলাকালিন সময়ে জাতীয় সদর দপ্তর হতে পর্যায় ক্রমে প্রাপ্ত এক হাজার ব্যাগ ত্রান সামগ্রী অসহায়, গরীব ও দুস্থঃ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। পরিবার প্রতি সাড়ে সাত কেজি চাল, এক কেজি ডাল,এক লিটার তেল,এক কেজি চিনি,এক কেজি লবন ও ৫০০ গ্রাম সুজি বিতরন করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের উদ্দ্যোগে ৫০০পিস কম্বল ও জাতীয় সদর দপ্তর হতে প্রাপ্ত ৫০০পিস কম্বল সহ সর্বমোট ১০০০ পিস কম্বল সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরন করা হয়।
রেডক্রিসেন্টের নেতৃবৃন্দ জানান, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সর্বমোট ১৫ হাজার ৪৯৬ জন চক্ষু রোগীর সেবা প্রদান করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫৩৭ জন রোগী সম্পূর্ন ভাবে ফ্রি সেবা পেয়েছে এবং ১৪৯ জন রোগীর লেন্স সংযোজন করা হয়েছে, ২১জন রোগীর ছোট অপারেশন করা হয়েছে। কোভিড-১৯ চলাকালীন সময়ে হাসপাতালের ০২ জন ডাক্তার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া সত্তেও হাসপাতাল সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং কোন কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন ভাতাদি বকেয়া নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে শহিদুল ইসলাম শাহান বলেন,‘ রেডক্রিসেন্ট সদস্যদের দোয়া ও সহযোগিতায় এবারও আমরা নির্বাচনে জয়লাভ করব। এবার নির্বাচিত হলে, তৃতীয়তলা ভবন কমপ্লিট করা হবে। আজীবন সদস্যদের ছবি ও মোবাইল নম্বরসহ ডাটাবেজ করা হবে। হাসপাতালের উন্নয়নে আরও আয়বর্ধক খাত চালু করা হবে। ’