চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন


আদালত প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী ও সমমনা আইনজীবি পরিষদ প্যানেলভুক্ত আলমগীর সভাপতি ও তালিম সাধারণ সম্পাদকসহ ১০টি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যপরিষদ প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে সহসভাপতি সহ ৪টি পদে জয়ী হয়েছে। প্যানেল ছাড়াও একক প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী খন্দকার অহিদুল ইসলাম ওরফে মানি খন্দকার পরাজিত হয়েছেন।
আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একটানা গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের অ্যাড. আলমগীর হোসেন ১০৮ ভোট ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাড. তালিম হোসেন ৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। মোট ১৭৫ ভোটারের মধ্যে ১৬৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বাতিল হয়েছে ১০ ভোট। সকল প্রার্থীর মধ্যে সর্বাধিক ভোট পেয়েছেন অ্যাড. আলমগীর হোসেন। নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা উপপরিষদের আহ্বায়ক অ্যাড. মো. আব্দুর রশিদ চৌধুরী। সদস্য ছিলেন অ্যাড. আতিয়ার রহমান ও অ্যাড. এমএম মনোয়ার হোসেন। ভোট গণনা শেষে রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর নির্বাচিতদের তাৎক্ষণিক ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি তাৎক্ষণিক ফোনে নির্বাচতদের অভিনন্দন জানান।
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দুজন। এদের মধ্যে অ্যাড. মো. আলমগীর হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন। একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাড. সৈয়দ হেদায়েত হোসেন আসলাম পেয়েছেন ৪৯ ভোট। সহসভাপতি ২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৪ জন। এদের মধ্যে অ্যাড. আব্দুল খালেক ৯৭ ভোট ও অ্যাড. কাইজার হোসেন জোয়ার্দ্দার শিল্পী ৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। পরাজিত প্রার্থী দুজনের মধ্যে অ্যাড. মামুন আক্তার ৫৬ ভোট ও অ্যাড. এখলাছুর রহমান কাজল পেয়েছেন ৬৮ ভোট। অ্যাড. আব্দুল খালেক জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যপরিষদ প্যানেলভুক্ত ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতদ্বন্দ্বিতা করেন তিনজন। এদের মধ্যে অ্যাড. তালিম হোসেন ৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। পরাজিত প্রাথী দুজনের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যপরিষদ প্যানেলভুক্ত অ্যাড. মইন উদ্দীন মইনুল পেয়েছেন ২৭ ভোট। অপর প্রার্থী অ্যাড. খন্দকার অহিদুল ইসলাম মানি পেয়েছেন ৪৪ ভোট। যুগ্মসাধারণ সাধারণ সম্পাদক পদে দুটি আসনে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী ও সমমনা পরিষদের অ্যাড. আসলাম উদ্দিন ৯৮ ভোট ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যপরিষদের অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল ৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। পরাজিত দু’প্রার্থীর মধ্যে অ্যাড. এসএম হুমায়ুন কবির ৬৩ ও অ্যাড. তসলিম উদ্দীন ফিরোজ ৫৮ ভোট পেয়েছেন। অ্যাড. তসলিম উদ্দীন ফিরোজ ছিলেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী ও সমমনা পরিষদ প্যানেলভুক্ত। সদস্য পদে আসন মোট ৯টি আসনে ১৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী ও সমমনা আইনজীবী পরিষদের নির্বাচিতদের মধ্যে অ্যাড. আমজাদ হোসেন ৮৬ ভোট, অ্যাড. মালিক আমানুর রহমান ৮৫ ভোট, অ্যাড. নাসিম উদ্দীন ৮৬ ভোট, অ্যাড. সাজ্জাদ হোসেন রকি ৯৯ ভোট, অ্যাড. তুহিন আহমেদ ১০৩ ভোট, অ্যাড. নাজমুল আহসান ১০০ ভোট, অ্যাড. শরিফুল ইসলাম ৯৬ ভোট পেয়েছেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যপরিষদ প্যানেলভুক্তদের মধ্যে নির্বাচিত দুজন অ্যাড. আসাদুজ্জামান মিল্টন ৯৪ ও অ্যাড. শাহীন আখতার ৮০ ভোট পেয়েছেন। পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী ও সমমনা আইনজীবী পরিষদ প্যানেলের অ্যাড. সামসুল আরেফিন ভুট্টো পেয়েছেন ৭৪ ভোট এবং অ্যাড. আবু তালেব পেয়েছেন ৭৮ ভোট। অপর প্যানেলের পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে অ্যাড. মাসুদুর রহমান ৫৫ ভোট, অ্যাড. হারুন অর রশিদ ৫০ ভোট, অ্যাড. হুমায়ুন কবীর ৬২ ভোট, অ্যাড. রুবিনা পারভীন ৭৪ ভোট, অ্যাড. মেহেদী হাসান ৭৫ ভোট, অ্যাড. জহুরুল ইসলাম ৫৩ ভোট, অ্যাড. হাসিবুল ইসলাম ৬৪ ভোট পেয়েছেন।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ভোটারদেরকে জানায় বিশেষ কৃতজ্ঞতা। তারা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, দায়িত্বকালীন সময়ে বার ও বেঞ্চের সম্পর্কের উন্নয়ন করা হবে। আইনজীবীদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং বিচার প্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধে সব ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে।’
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. তালিম হোসেন বলেন, বিজয়ের স্বাদ বরাবরই মধুর। প্রথম দফায় নির্বাচনে যারা আমাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করলেন, তাদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বাত্মক সচেষ্ট থাকবো।
প্রসঙ্গত. চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটি ২০২১ সালে দায়িত্ব পালন করবে।