পশ্চিমাঞ্চল অনলাইন মনিটর:আকস্মিকভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এস্পারকে বরখাস্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। টুইটার ব্যবহার করে নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিষয়ক এই শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের প্রধান ক্রিস্টোফার মিলার অবিলম্বে এই দায়িত্ব নেয়ার কথা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে আরো বলা হয়, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মার্ক এস্পারের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। ৩রা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় ২৭০টিরও বেশি ইলেকটোরাল ভোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জো বাইডেন অর্জন করলেও ট্রাম্প পরাজয় মেনে নেননি। তিনি উল্টো প্রমাণ ছাড়া নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

ওদিকে আগামী ২০ শে জানুয়ারি ক্ষমতা নেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন জো বাইডেন। কিন্তু সে পর্যন্ত আইনগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। বিবিসি বলছে, সোমবার মার্ক এস্পারকে বরখাস্তের ঘোষণা দেয়ার সামান্য পর পরই পেন্টাগনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে ক্রিস্টোফার মিলারকে। তিনি আগস্টে ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের প্রধান নিযুক্ত হন। এর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন।
ওদিকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন মার্ক এস্পার। এতে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বলেছেন, পেন্টাগনে দেড় বছর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি যা অর্জন করেছেন তার জন্য তিনি গর্বিত। তিনি লিখেছেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিরক্ষায় আমি কাজ করেছি। আমার পরিবর্তে অন্য কাউকে বসানোর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। কিন্তু ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্রেট, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ক্ষমতার মেয়াদের শেষ দিনগুলোতে এমন কিছু কাজ করছেন যা দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রে এবং বিশ্বজুড়ে এক বিশৃংখলার বীজ বপন করছেন। এ জন্যই তিনি আকস্মিকভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এস্পারকে বরখাস্ত করেছেন।
এ বছরের শুরুর দিকে বর্ণবাদী ইস্যুতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে যেভাবে ব্যবহার করেছে হোয়াইট হাউজ তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল মার্ক এস্পারের। মে মাসে মিনেসোটায় মিনিয়াপোলিসে পুলিশের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনি জর্জ ফ্লয়েড। তার মৃত্যুতে পুরো যুক্তরাষ্ট্র আন্দোলনে কেঁপে ওঠে। এই অসন্তোষ দমিয়ে রাখতে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের হুমকি দেন ট্রাম্প। কিন্তু জুনে তার এমন পরিকল্পনার জবাবে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মার্ক এস্পার বলেন, এই বিক্ষোভে সক্রিয় সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা হবে অপ্রয়োজনীয়। তার এমন মন্তব্যে হোয়াইট হাউজ অসন্তুষ্ট হয়েছিল। এই মনোমালিন্যের পর ব্যাপকভাবে কানকথা ছড়িয়ে পড়েছিল যে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এস্পারকে বরখাস্ত করতে চলেছেন ট্রাম্প। তবে সোমবার তাকে ঠিকই বরখাস্ত করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু কেন? এর কোনো কারণ তিনি উল্লেখ করেন নি। উল্লেখ্য, ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে আসা নিয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে এস্পারের মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল।