পশ্চিমাঞ্চল স্পোর্টস ডেস্ক:শেষ হয়ে গেলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজনে বিশেষ ওয়ানডে টুর্নামেন্ট প্রেসিডেন্টস কাপ। যেখানে প্রথম রাউন্ডে সবার ওপরে থাকলেও, শেষপর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি নাজমুল শান্ত একাদশ। ফাইনাল ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রেসিডেন্টস কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একাদশ।

তবে আসরের সেরা ব্যাটসম্যানের তালিকায় সবার ওপরের দুইটি নাম নাজমুল একাদশেরই। অদ্ভুত মিল, দুজনই আবার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। তারা হলেন নির্ভরতার প্রতীক মুশফিকুর রহীম ও সাম্প্রতিক সময়ে নিজের জাত চেনানো বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর। আসরে মুশফিক করেছেন ২১৯ রান, ইরফানের ব্যাট থেকে এসেছে ২১৪ রান।

সন্দেহ নেই, প্রেসিডেন্টস কাপ খেলতে নামার আগে পুরো টুর্নামেন্টের বাকি সব খেলোয়াড়দের চেয়ে ভালো প্রস্তুতি ছিলো উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীমের। যার প্রতিফলন দেখা গেছে মাঠেও। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১ রানে আউট হয়ে গেলেও, পরের তিন ম্যাচে খেলেছেন যথাক্রমে ১০৩, ৫২ ও ৫১ রানের ইনিংস। পরে ফাইনাল ম্যাচে আউট হয়েছেন ১২ রান করে।

পুরো আসরে মুশফিকের চেয়ে তো দূরে থাক, তার সমান তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংসও খেলতে পারেননি আর কোনো ব্যাটসম্যান। পাঁচ ম্যাচে ৪৩.৮০ গড়ে ২১৯ রান করার মাধ্যমে যোগ্য হিসেবেই আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মুশফিক, পেয়েছেন ২ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার।

Advertisement

তবে আসরের সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কার কিন্তু পাননি মুশফিক। তার ব্যাট থেকে সর্বোচ্চ ২১৯ রান এলেও, সেরা ব্যাটসম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ৫ রান কম করা ইরফান শুক্কুর। পুরো আসরে ৭১.৩৩ গড়ে ২১৪ রান করেছেন ইরফান। যেখানে দুইটি ফিফটি ছাড়াও ছিল একটি ৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংস।

মজার বিষয় হলো, নাজমুল একাদশের হয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম ও শেষ ম্যাচেই শুধু ফিফটি পেরুতে পারেননি মুশফিক; ঠিক এ দুই ম্যাচেই দলের হাল ধরে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন ইরফান। দুটি ম্যাচেই চাপে ছিলো দল। প্রথম ম্যাচে দলকে জেতাতে পারলেও, শেষ ম্যাচে আর পারেননি ইরফান। একার লড়াইয়ে ৭৫ রানের ইনিংস খেললেও বাকিদের ব্যর্থতায় ফাইনালে পরাজিত দলেই থাকতে হয়েছে ইরফান-মুশফিকদের।

ব্যাট হাতে এ দুজনের ঠিক পরেই রয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইরফানের সমান দুই ফিফটিতে করেছেন আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৬২ রান। ফাইনাল ম্যাচে দলকে ২০.২ ওভার আগেই জেতানোর পথে মাত্র ১১ বলে ২৩ রানের ক্যামিও খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। এছাড়া বল হাতেও ২টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

প্রেসিডেন্টস কাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক১/ মুশফিকুর রহীম : পাঁচ ম্যাচে ৪৩.৮০ গড়ে ২১৯ রান, সর্বোচ্চ ১০৩২/ ইরফান শুক্কুর : পাঁচ ম্যাচে ৭১.৩৩ গড়ে ২১৪ রান, সর্বোচ্চ ৭৫৩/ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ : পাঁচ ম্যাচে ৪০.৫০ গড়ে ১৬২ রান, সর্বোচ্চ ৬৭৪/ আফিফ হোসেন ধ্রুব : পাঁচ ম্যাচে ৩১.৪০ গড়ে ১৫৭ রান, সর্বোচ্চ ৯৮৫/ ইমরুল কায়েস : পাঁচ ম্যাচে ৩৬.৫০ গড়ে ১৪৬ রান, সর্বোচ্চ ৫৩*