নির্বাচনী এলাকা থেকে ফিরে আহসান আলম ও তানজীর ফয়সালঃ দামুড়হুদায় কঠোর নজরদারীর মধ্যদিয়ে উৎসব মুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নাটুদহ এবং নতিপোতা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে। সকাল থেকেই দু’টি ইউনিয়নে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও আনসার বাহিনীসহ পর্যাপ্ত পরিমাণ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক নারী ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
গতকাল শনিবার সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত দু’টি ইউনিয়নে একযোগে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়। নাটুদহ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম ইসলাম শফি ৪ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম আনারস প্রতিকের সতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) আব্দুল হালিম পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৫৭ ভোট।
এ ছাড়া ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী আমির হোসেন মাষ্টার পেয়েছেন ৩০১ ভোট, অটোরিক্সা প্রতিকের সতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) ইয়াচনবী পেয়েছেন ২ হাজার ৬৩৪ ভোট, মোটরসাইকেল প্রতীকের (বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী) ফজলুল হক পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৯ ভোট এবং টেবিলফ্যান প্রতীকের প্রার্থী চারুলিয়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম মোক্তা পেয়েছেন মাত্র ১৯২ ভোট।
অপর দিকে নতিপোতা ইউনিয়নে আনারস প্রতিকের সতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) ইয়ামিন আলী ৫ হাজার ১১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম মোটরসাইকেল প্রতিকের প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) হাজী রবিউল হাসান পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৩ ভোট। এ ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির পেয়েছেন ৯৭১ ভোট। এ ছাড়া নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আজিজুল হক আজিজ পেয়েছেন ৩ হাজার ১৭২ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনিত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোশারফ হোসেন পেয়েছেন মাত্র ১৫৫ ভোট।
চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ  সুপার  জাহিদুল  ইসলাম, উপজেলা নিবার্হী অফিসার দিলারা রহমান, অতিরিক্ত  পুলিশ  সুপার (প্রশাসন)  আবু তারেক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিউদ্দিন,  সিনিয়র  সহকারী  পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) আবু রাসেল, দামুড়হুদা মডেল থানা  অফিসার  ইনচার্জ  আঃ খালের দু’টি ইউনিয়নের বেশ ক’একটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন অফিসার এমএজি মোস্তফা ফেরদৌস। তিনি জানান, দু’টি ইউনিয়নের মধ্যে নাটুদহ ইউনিয়নে মোট ভোটর সংখ্যা ১৪ হাজার ৮২৬। এরমধ্যে পোল হয়েছে ১২ হাজার ৬৬৫। বাতিল হয়েছে ২৮০ ভোট। উপস্থিতির হার ৮৫ ভাগ। এ ছাড়া নতিপোতা ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ১২৭। পোল হয়েছে ১৩ হাজার ৬৫ ভোট। বাতিল হয়েছে ৩০৮ ভোট। উপস্থিতির হার ৮৬ ভাগ। তিনি আরও জানান, নাটুদহ ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী আমির হোসেন মাষ্টার এবং টেবিলফ্যান প্রতিকের সতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলামের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
একইভাবে নতিপোতা ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মনিরুজ্জামান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনিত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোশারফ হোসেনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলা নিবার্হী অফিসার দিলারা রহমান বলেন- সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখতে পেয়েছি যে, অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে মা-বোনসহ সকল ভোটারগণ তাদের ভোট প্রদান করছেন। জলে-স্থলে ভোটারগণের পরিপূর্ণ উপস্থিত দেখা গেছে। ভোটারবৃন্দের আগমনে ভৈরব নদীতে নৌকা উপচে পড়ছে। ভোট কেন্দ্রসমূহ ভোটারগণের পদচারণায় মুখর হয়ে আছে। দুই ইউনিয়নের সকল অধিবাসী যেন আজ মেতেছে নির্বাচনী আনন্দে।
জেলা গ্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার ও পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভোট গ্রহণ শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সকলকে ব্যক্তি ও দলের উর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু করতে যা যা করণীয় তাই করতে হবে বলে দায়িত্বে নিয়োজিত সকলকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়েছে। কারও গাফলতির কারণে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণ বিঘ্নিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।
এসময় সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বলেন, আপনাদেরকে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে নির্বাচন পরবর্তী সকল প্রকার সহিংসতা পরিহার করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ মার্চ ওই দু’টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের দিনধার্য থাকলেও করোনা ভাইরাসের কারণে ভোটের ঠিক এক সপ্তাহ আগে নির্বাচন কমিশন থেকে ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে গত মাসের ১৬ তারিখে স্থগিতকৃত ওই দু’টি ইউনিয়নে নতুনভাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।