ঘটনাস্থল থেকে ফিরে তানজির ফয়সাল,দামুড়হুদা প্রতিনিধি:দামুড়হুদার গোবিন্দপুরে নিজ বসতবাড়ির বেডরুমের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দূর্বত্তরা কিলিং মিশন ঘটিয়েছে। দূর্বত্ত হাতে খুন হওয়া কৃষক দম্পতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে কিলিং মিশনে ব্যবহৃত হাসুয়া।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের স্বামী ইয়ার আলী মোল্লা (৫৫) এবং তার স্ত্রী রোজিনা খাতুনকে (৪৫)কে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুবৃত্তরা। ইয়ার আলী ওই গ্রামের মৃত হিবাত আলি মোল্লার ছেলে।গতকাল রবিবার রাত ৯টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করেছে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ। তবে কখন কিভাবে এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে কেউ বলতে পারছে না।

ইয়ার আলির বৈবাহিক অবস্থা : নিহত ইয়ার আলি বিয়ে করেন ৪টি।
প্রথম স্ত্রী তিন কন্যা মন্তান রেখে আগেই মারা যায়।পরবর্তীতে তিনি আরো তিনটি বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ে করেন দর্শনা শ্যামপুরের ফেরদৌসি । ফেরদৌসি তার নামে ইয়ার আলির কাছ থেকে তিন বিঘা জমি লিখে নিয়ে বাবার বাড়ি লাপাত্তা দেন বলে জানান স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড মেম্বর শাহাজামাল । এজন্য ইয়ার আলি দ্বিতীয় বৌয়ের নামে মামলা করেন যা চলমান।নিহত ইয়ার আলি তৃতীয় বিয়ে করেন মহেশপুরের রেহেনাকে।তার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে ছয় মাস আগে।

গ্রামবাসীর বক্তব্যঃরোববার ইয়ার আলী মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে আনতে যাওয়ার কথা ছিলো। তবে কেউ তাকে আনতে যায়নি। বাড়িতে একাধিক বার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ হয়নি। বার বার ফোন দিয়ে রিসিভ না হওয়ায় সন্ধ্যায় মেয়ে বাড়িতে ঘরের বন্ধ দরজা খুলে ঘরে ঢুকে দেখতে পায় তার মা-বাবার জবাই করা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। তখন তার চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে অাসে।দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান অফিসার ইনচার্জ আ:খালেক। এর পরই
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চুয়ডাঙ্গার মানবিক পুলিশ জাহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল ( দামুড়হুদা সার্কেল)। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সি আইডি। রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে ঝিনাইদহ হতে পিবিআই ‘ য়ের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে আসেন। ঘটনাস্থল হতে হত্যাকান্ডের ব্যবহারের আলামত সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। লাশ উদ্ধার করে গতকাল রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাংগা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। কখন কে বা কারা এই কিলিং মিশনের ঘটনা ঘটিয়েছে তা কেউ বলতে পারছে না।
এলাকাবাসীর ধারনাঃ শনিবার দিনগত রাতের কোন এক সময় অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা কৃষক-দম্পত্তির ঘরে ঢুকে জবাই করে কিলিং মিশন সংঘটিত করে। তবে এমন ঘন জনবসতি এলাকায় এমন জোড়া কিলিং মিশনের বিষয়ে প্রতিবেশীরা কেউ টের পোলোনা এটা রহস্যাবৃত বলে মনে করছে এলাকার অনেকেই।

নিহত বড় মেয়ে হীরা খাতুন জানিয়েছেন : আমার বাপের ৪০ বিঘা জমি রয়েছে যা আমার অন্য চাচাদের নেই। আমার চাচা, চাচতো ভাই সহ গ্রামের মানুষের হিংসা ছিলো। এছাড়াও আমার বাপের কাছ থেকে দিত্বীয় স্ত্রীর ফেরদৌসীর ৩ বিঘা জমি লিখে নেন এজন্য আমার বাপ ফেরদৌসীর নামে মামলা করাছিলেন সে মামলা এখনো চলছে।আমার বাপের জমির জন্য পরিকল্পিত হত্যা করেছে।

নিহতের ছোট মেয়ে ইতি খাতুন জানিয়েন : আমি আমার মেজ বোনের বাড়ি পারকৃষ্ণপুর বেড়াতে যায়। আমার বাপের সাথে আমার গত শনিবার সাকালে মোবাইল ফোনে কথা হয়। আমার বাপ বললো মা আমি রবিবারে সকালে তোমাকে নিতে যাবো আমি বললাম আচ্ছা সকাল করে এসো এ আমার শেষ কথা হয়েছে। এরপর শনিবার পেরিয়ে পরদিন রবিবার সকালে যখন বাপ আসে না তখন আমি অনেক বার মোবাইল করি আমার বাপ ফোন ধরে না। পরে আমি সন্ধার দিকে গোবিন্দপুরে এসে দেখি বাড়িতে রাতে ঘুমালে তালা দেওয়া থাকে সে ভাবে তালা দেওয়া রয়েছে। আমি বাড়ির প্রাচীন পার হয়ে বাড়ির ভীতর ডুকে দেখি বাড়ির দালান ঘরের গ্রীল দেওয়া আর ঘরের কাঠের দরজা ভাঙ্গা দালানে গিয়ে দেখি আমার বাপ আর মার গলাকাটা লাশ পরে আছে। আমি ভয়ে চিৎকার করলে গ্রামের লোকজন এসে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ আসেন। আমার বাপের দ্বিতীয় স্তী ফেরদৌসী সহ গ্রমের অনেকেই জড়িত আছে। আমার বাপের ছেলে নেয় আমার তিন বোন। আমার বাপের জমির উপর অনেকের দীর্ঘদিন দিনের লোভ রয়েছে। পরিকল্পনা করে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু রাসেল জানান,ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।তবে পরিবারের লোক জন বা ছেলে মেয়েরা কোথায় থাকে তাও জানার চেষ্টা করছি কারন এত বড় একটা ঘটনা ঘটলো রহস্য আছে বিষয়টি খতিয়য়ে দেখা হচ্ছে।