দামুড়হুদা প্রতিনিধিঃ দামুড়হুদা উপজেলা সদরের চিৎলা গ্রামে ছেলের বিরুদ্ধে বিধবা  মায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে,উপজেলার চিৎলা গ্রামের  হামিদা খাতুনের  স্বামী  মৃত.  শাহাাদাৎ শেখ ছিলেন একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা।স্বাধীনতা চলা কালীন সময়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। স্ববাধীনতা যুদ্ধ চলা কালে সময়ে পরিবারটি তখন চুয়াডাঙ্গা জেলার খাজুরা গ্রামে থকতেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ এর স্তী  বর্ততমান দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন চিৎলা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা যায়। 

অভিযোগে হামিদা খাতুন জানান – আমর  ছেলে রাজ্জাক গত প্রায়  ১৫ বছর পূর্বে আমার ভরণ পােষনের দ্বায়িত্ব না নিয়ে বাড়ী থেকে বের করে দেন।বর্তমানে আমি আমার মেয়ের বাড়ীতে বসবাস করছি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযােদ্ধা চলা কালে আমার স্বামী মারা যান। যুদ্ধ চলা কালে আমিও আমার স্বামীর সাথে ঝড়ে – জঙ্গলে ঘুরেছি, আজ আমার স্বামী নেই তো কিছু নেই। হামিদা খাতুন বলে আমি জানতে পেরেছি গত২/  ৩ বছর পূর্বে আমার ছেলে রাজ্জাক  আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর চুয়াডাঙ্গা থেকে গােপনে মুক্তিযােদ্ধা ভাতার কার্ড করেন। কার্ডটি করার আগে বেশ ক’একবার আমাকে আমার ছেলে চুয়াডাঙ্গায় আমাকে নিয়েও গেছে। পরবর্তীতে  বিগত ২/ ৩ বছর যাবত আমার ছেলে চুয়াডাঙ্গায় থেকে  আমার স্বামীর মুক্তিযুদ্ধের  ভাতার কার্ড হইতে নিয়মিত টাকা উত্তোলন করে আসছেন । আমি জানতে পেরে আমার ছেলেকে বলি মুক্তিযােদ্ধা ভাতার কার্ড আমার কাছে দে কিন্তুু সে  বলেন তুমি এ কার্ড পাবা না, আমার আব্বা তোমাকে তালাক দিয়েছিলো, পরে তুমি বিয়ে করেলে  তাই বলে বিভিন্ন তালবাহানা করেন। কিন্তুু আমার স্বামী বা আমি কেউ কখনো কাউকে তালাক দেয়নি বা বিয়ের  ঘটনাও ঘটে নি আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হিসেবে আমার স্বামীর কার্ডটি পেতে চায়।
তথ্য সংগ্রহ করতে সরেজমিনে গেলে বীরমুক্তিযোদ্ধ’র স্ত্রী হামিদা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে  সাংবাদিকদের নিকট বলেন – আমার পেটে ধরা ছেলে আমাকে বিভিন্ন  সময়ে ছোট খাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে গালাগালি সহ মারধর করে থাকেন। অথচ আমি আমার বাপের জমি পোলাম ১ কাটা জমিটুকুও আমি আমার নামে না নিয়ে আমার ছেলের নামে দিতে বললাম আমার বাপের, দেখলাম আমার নামে নিলে আমার মেয়েরাও পাবে যাক আমার ছেলের কিছু নেই। সবাইকে বুঝিয়ে আমার ছেলের নামে দিলাম আর সেই ছেলে আমার স্যান্ডেল দিয় মারে। আমি আমার স্বামী’ র ভাতার কার্ডের টাকা থেকে ঔষধ কিনার জন্য ৫০০/১০০০ টাকা দিতে বললে আমার ছেলে বলেন তোর কিসের টাকা, টাকা নেই।আপনাদের মাধ্যমে  আমি সকলকে  জানতে চায় আমার স্বামী’র মুক্তিযুদ্ধের ভাতার কার্ডের আমি স্ত্রী হয়ে কোন সুবিধা ভোগী হতে  পারছি না অতচ আমার ছেলে কি ভাবে  আমার স্বামী’র কার্ডের সুবিধা  ভোগী  হচ্ছেন জানিনা?এরই ধারাবাহিকতায় ছোট্ট একটা বিষয় নিয়ে আমার ছেলে গত ২৯ অক্টোবর আমাকে গালাগালি সহ মারধর করেন।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সাবেক  কমান্ডার আছির উদ্দন   বলেন- আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে অবশ্যই চায় প্রকৃতি মুক্তিযুদ্ধের স্ত্রী তার স্বামীর মুক্তিযুদ্ধের কার্ডের সুবিধা ভোগী হবে। জানিনা কি কারণে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হামিদা খাতুনের কার্ডটি হয় নি।তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিলে বিষয়টি জানা যাবে। 
জেলা মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার আবু হোসেন  মুঠোফোনে জানান চুয়াডাঙ্গা জেলার খাজুরা গ্রামের মৃত. শাহাদাৎ শেখ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার মুক্তিযোদ্ধা কার্ডের সুবিধা ভোগী হচ্ছেন তার ছেলে আঃরাজ্জাক। তবে মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ শেখ মৃত্যুর পর ভাতা ভোগী হওয়ার কথা তার স্ত্রী হামিদা, কিন্তুু কেন পাইনা আমি সঠিক বলতে পারছি না। মুক্তিযুদ্ধার স্ত্রী হামিদা খাতুন যদি তার স্বামীর  মৃত্যুর পর  বিবাহ না করে থাকেন তবে মুক্তিযোদ্ধার কার্ড তারই পাওয়ার কথা ।মুক্তিযুদ্ধা শাহাদাৎ শেখের মৃত্যুর পর যদি তার স্ত্রী হামিদা খাতুন   কোন বিবাহ না করে থাকেন তবে তা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কতৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ শেখের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী হামিদা খাতুন আর কোন বিবাহ করেনি এ মর্মে প্রত্যায়ন নিয়ে জামা দিলে তার ছেলের নামে হওয়া  ভাতার কার্ড বন্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের স্ত্রী হামিদা খাতুনের নামে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এবিষয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হামিদা খাতুন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটা লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।