দর্শনা অফিসঃ দর্শনা ঈশ্বরচন্দ্রপুরে ছেলের বন্ধুর ধারালো ছুরিকাঘাতে নিহত শহিদুল ইসলামের (৫৪) লাশের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে নিহতর লাশের ময়না তদন্ত শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় সুজনকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় মামলা মামলা দায়ের করা হয়েছে।


সে নিজ বাড়ির পার্শ্বে গ্রামের বড় মসজিদের সামনে ছেলের বন্ধুর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়।
গত শনিবার দুপুর দেড় টার দিকে দর্শনা ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের বড় মসজিদের সামনে পিতার নাম বিকৃত করে উচ্চারণ করায় সৃষ্টি বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে ছেলের বন্ধু সুজনের ধারালো ছুরিকাঘাতে মারাত্বক ভাবে জখম হয়ে শহিদুল ইসলাম (৫৪) হয়ে নিহত হয়।
নিহত শহিদুল ইসলাম দর্শনা পৌরসভাধীন ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মসজিদ পাড়ার বাসিন্দা ও তাহির মন্ডলের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনায় অভিযুক্তের নাম মো. সুজন (১৮)। সে একই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে।
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের চৌরাস্তা মোড় বড় মসজিদের সামনে আশানুরের ছেলে জাকির (১৬) শহিদুলের ছেলে ইলফাজ (১৬)। এসময় তারা তাদের নিকটবর্তী স্থানে দাঁড়িযে থাকা গ্রামের বড় মসজিদ পাড়ার আমজাদের ছেলে সুজনকে ইঙ্গিত করে গলাছিলা বলে ব্যাঙ্গ করে কথাবার্তা বলে। এতে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে জাকিরের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এসময় জাকির ও ইলফাজ সম্পর্কে চাচাত ভাই হওয়ায় ইলফাজ জাকিরের পক্ষে কথা বলেন। ফলে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে জাকির ও ইলফাজকে মারধর করে।
পরে ইলফাজের বাবা শহিদুল ইসলাম প্রতিবাদ করলে সুজন বাসা থেকে ধারাল বড় ছুরি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শহিদুল ইসলাম ও ইলফাজকে ছুরিকাঘাত করে।
এতে শহিদুল ও তার ছেলে ইলফাজ হোসেন, ফরিদ হোসেন, জাকির হোসেন ও নিলা খাতুন আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহানা আহমেদ বলেন, নিহত শহিদুলের বুকে, পিঠে ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এসব স্থানে গভীর ক্ষতের ফলে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এসময় ছুরিকাঘাতে আহত হয় ৪ জন। এদের মধ্যে ১ জনের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে হত্যা কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ছুরি (চাকু)। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন। নিহতর লাশ ময়না তদন্তের জন্য রাখা হয়েছে হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়।
নিহতর ময়না তদন্ত শেষে পরদিন গতকাল রোববার দুপুরে তার মৃতদেহ নিজ গ্রামের বাড়ি পৌছায়। এরপর ওইদিন বাদ যোহর নামাজের জানাযা শেষে গ্রামের কবরস্থানে বেদনা-বিধূর পরিবেশে তার দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।
এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতর মেয়ে আমেনা খাতুন বাদি হয়ে সুজনকে প্রাধান ৬ জনের নাম উল্লেখ করে দর্শনা থানায় মামলা দায়ের করেছে।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাব্বুর রহমান কাজল জানান, নিহত শহিদুল ইসলামের মেয়ে আমেনা খাতুন বাদী হয়ে পিতার হত্যাকারী সুজনকে প্রধান করে ৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামীদের নাম গোপন রাখা হয়েছে। মামলার অভিযুক্ত আসামীদেরকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।