দর্শনা অফিসঃ বৈষম্য দূরীকরনের দাবী আদায়ের লক্ষে ৫ দফা দাবীতে দর্শনা কেরুজ চিনিকলে কর্মরত “সিডিএ,সিআইসি ঐক্য পরিষদ” স্মারক লিপি প্রদান করেছেন।গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দর্শনা কেরুজ চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন নের্তৃবৃন্দর হাতে স্বারক লিপি তুলে দেন সিডিএ,সিআইসি ঐক্য পরিষদের আহব্বায়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম ও যুগ্ন আহব্বায়ক সাহেব আলী সিকদার সহ নের্তৃবৃন্দরা।এ স্মারক লিপি গ্রহণ করেন, দর্শনা কেরুজ চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি তৈয়ব আলী ও সাধারন সম্পাদক মাসুদুর রহমান, সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সহ ইউনিয়নের নের্তৃবৃন্দরা।তাদের দেওয়া ৫ দফা দাবীর মধ্যে (১) সিডিএ,সিআইসি’দের উচ্চত্বর কারিগরি গ্রেডে পদায়ন দেওয়া প্রসঙ্গে। (২) অকারিগরি পদে পদায়নের বাধা অপসারন প্রসঙ্গে। (৩) মাড়াই মৌসুম চলাকালীন শুক্রবার ও ছুটির দিনে ওটি পূর্বের ন্যায় ৮ঘন্টা প্রদান প্রসঙ্গে। (৪) ৪ জনকে সহকারী বন্ডেড ওয়্যারহাউজ পদে বহাল রাখা প্রসঙ্গে। (৫) সিডিএ পদে নিয়োজনকৃত ১০ জন যোগ্যতা সম্পন্ন সিডিএ’দেরকে স্থায়ী করণ প্রসঙ্গে।নের্তৃবৃন্দরা স্মারক লিপিতেউলে­খ করেন, আমরা প্রায়ই শুনে থাকি যে, চিনিকল গুলোর চিনি তৈরী হয় মাঠে। আর তাই ইক্ষু চাষিরা এই চিনি শিল্পের প্রাণ। কথাটা সর্বয় সত্য। পাশাপাশি সুধী জনেরা এও বলে থাকেন যে, সিডিএ,সিআইসি গণেরা অক্লান্ত পরিশ্রমের এবং সঠিক ভাবে সম্প্রসারণ কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে এই অসাধ্য সাধন করে থাকেন। তারা এই প্রতিষ্ঠান গুলোর শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে শিক্ষিত সমাজ। আমরা আÍতৃপ্তি লাভ করে থাকি। ঠিক এতটুকুতেই যুগ যুগ ধরে আমাদের কাজের মূল্যায়ন আমরা পেয়ে আসছে। এক সময়ের ফিল্ডম্যান আজকের সিডিএ। কর্মকর্তাদের পদবী পরিবর্তন হলেও আমরা ঐ জায়গাতেই আছি। বারে,বারে প্রতিষ্ঠানিক কৃচ্ছতা সাধনের নির্দেশের বলি আমরাই হয়েছি।আমাদের অনেক আর্থিক সুবিধা হ্রাস হতে,হতে একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আমরা প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে নির্দ্বিধায় আমাদের ব্যাক্তিগত স্বার্থকে বারে,বারে জলাঞ্জলী দিয়েছি। কিন্তু প্রশ্ন, এতকিছু ছাড় দেওয়ার পরেও আমরা কেন চিনিশিল্প গুলোকে লাভের মুখ দেখাতে পারেনি, ব্যার্থতা কিসের ? চিনিশিল্পের এই সংকটকালীন সময়ের চুলচেরা বিশে­শণের একান্ত প্রয়োজন।সিডিএ,সিআইসি’দের প্রশংসার পাশাপাশি ধীরে,ধীরে কখন যে তাদের শৃংঙ্খলিত করা হয়েছে উপলদ্ধি করছি। আমরা দেখেছি, আপদকালীন সেটআপ নামে অনেক পদের পাশাপাশি সিআইসি পদও বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত। আমাদের বর্তমান সাধারন সম্পাদক তথা সকল ঘটনাগুলো বলতে গেলে কালের স্বাক্ষী। পাশাপাশি সেই সময়ের সরাসরি রাজনৈতির সাথে সংশি­ষ্ট না হলেও আমাদের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সংগ্রামী সভাপতিও বিষয়গুলো সম্পর্কে সবই অবগত আছেন। তাদের সম্মলিত প্রচেষ্টায় আমরা আপদকালীন সেটাপের কালো থাবা থেকে নিঃস্কৃতি পেয়েছি। আমরা সেই বিশ্বাস, সেই আস্থা নিয়ে আপনাদের সম্মুখে আমাদের ৫ দফা দাবি নামা পেশ করছি।উলে­খ্য, গত শুক্রবার সন্ধা ৭টায় দর্শনা কের“জ চিনিকলের ক্লাব মাঠে এক আলোচনা সভায় কেরুজ সিডিএ,সিআইসি’দেরবৈষম্য দূরীকরনের দাবী আদায়ের লক্ষে উপস্থিত সকলের সম্মতি ক্রমেঐক্য পরিষদ নামে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহব্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে সিডিএ শফিকুল ইসলাম তরফদারকে (সাবু) আব্বায়ক ও সিডিএ সাহেব আলী তরফদারকে যুগ্ন-আহব্বায়ক এবং সিডিএ সাইফুদ্দিন সুমন, এএসএম কবির, একরামুল হক খলিল, সিআইসি রুহুল আমিন, সিডিএ হারিজুল ইসলামকে সদস্য করা হয়।