দর্শনা অফিসঃ বাল্য বিয়ে আইনত অপরাধ। আইন জানাসত্বেও দর্শনার পারকৃষ্ণপুর গ্রামে প্রশাসনের সকল নিষেধ উপেক্ষা করে মেয়ের বাল্য বিয়ে দিয়েই ছাড়লেন বাবা কামাল উদ্দিন। প্রশানকে চ্যালেঞ্জ করে মেয়ের বিয়ে দেওয়ায় বইছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়।
জানাগেছে, জীবননগর উপজেলার উথলী বাজার পাড়ার ১ নং ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারন সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিকের ছেলে একই ইউনিয়নের উথলী ডিগ্রী কলেজের ইন্টারমিউডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হৃদয় হোসেনের সাথে গত দু’মাস আগে গোপনে বিয়ে হয় দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের পারকৃষ্ণপুর গ্রামের বাজার পাড়ার কামাল উদ্দিনের মেয়ে দর্শনা কেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী জারিন তাছলিন রিতুর সাথে। পূর্বের বিয়ের কথা গোপন করে গতকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ের আয়োজন করে মেয়ের বাবা। বাল্যবিয়ে আয়োজনের বিষয়টি দর্শনা থানা, দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন পর্যন্ত অবগত করানো হয়। বাল্যবিয়ে না দেবার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়। সে সময় মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনকে আশ্বস্থ করা হয়। প্রশাসন চলে যাবার পর তাতে কোনই কর্ণপাত করে না মেয়ের বাবা। সকল নিষেধ অমান্য করে আনুষ্ঠানিক ভাবে মেয়েকে তুলে দেওয়া হয় ছেলের হাতে। প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে মেয়ের বিয়ে দেয়ার ব্যাপারে কামাল উদ্দিন জানান, বিয়ে আরও দু’মাস আগেই দিয়েছি আজ আনুষ্ঠানিকতা করা হলো।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাব্বুর রহমান বলেন, আমরা খবর পেয়ে বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম এবং বিবাহ বন্ধ করে দিয়ে এসেছি। বিবাহ হয়নি।
দামুড়হুদা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহি অফিসার সহকারী (ভূমি) মহিউদ্দিন বলেন, বাল্য বিয়ে হচ্ছে এমন খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর বাড়ির লোকজন সব পালিয়ে গিয়েছিল। যেহেতু ঘটনাস্থলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। সেহেতু বিয়েটা জীবননগর উপজেলা এলাকায় হচ্ছে সে কারণে বিষয়টি জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহাদয়কে জানানো হয়েছে তিনি যদি ঘটনা উদঘাটন করতে বা যানতে পারে সেখানে যাতে ব্যাবস্থা যেন নিতে পারেন।