দুর্গন্ধে নাকে দিয়ে এলাকাবাসী

তালতলা পশুহাটপাড়ার পোল্টি ফার্ম মহল্লার ছেলে-মেয়েদের ভেঙে যাচ্ছে বিয়ে : বাড়ীতে যেতে চাই না আত্মীয়-স্বজন

আহসান আলম: আমাদের কারও বাড়ীতেই আসে না কোন আত্মীয়-স্বজন। ছেলে-মেয়েদের জন্য বিয়ের সম্মন্ধ আসলেও বাড়ী-ঘর দেখতে আসলেই পরিবেশ দেখেই বিয়ে ভেঙে যায়। না পারি ঘুমাতে, না পারি বাইরে বের হতে। কতোদিন যে বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে পারি নি। অভিযোগের সুরে কথাগুলো বলেন ওই এলাকার সকলেই।

তারা আরও বলেন, কাজের জন্য পুরুষ মানুষরা এখানে সেখানে গেলেও যুবতী-বৃদ্ধা-কিশোরী-বধুদের বেশিরভাগ সময় ঘরে বন্দী থাকতে হয়। না পারছে সইতে না পারছে প্রতিবাদ করতে। প্রতিবাদ করলেই দেয়া হয় হুমকী-ধামকী। একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায় নি ওই এলাকার অসহায় মানুষগুলো। এভাবেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তালতলা পশুহাটপাড়ার হাজরাহাটী সড়কের পোল্ট্রি ফার্মপাড়ার বাসিন্দারা।

সেখানে গড়ে ওঠা জোবেদা পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ থেকে দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে এলাকার পরিবেশ হয়ে পড়েছে অস্বাস্থ্যকর। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবী বারবার শতর্ক করার পরও প্রতিষ্ঠান মালিক এখনও পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি।

সরেজমিনে সেখানে গেলে অভিযোগের প্রমাণ মেলে। সেখানে গড়ে ওঠা জোবেদা পোল্ট্র্রি ফার্ম থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে নাকে রুমাল দিয়েও কাজ হয় নি। পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য ওই মহল্লার আসপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। ফার্মের ভিতরের বড় বড় অ্যাডজাস্টটেবল ফ্যানগুলো থেকে যে বাতাস বের হচ্ছে তাতে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। আর মুরগীর ছোট ছোট পালকগুলো বাতাসের সাথে এলাকায় ছড়িয়ে যাচ্ছে। বার-বার নাকে হাত দিয়ে দুর্গন্ধ থেকে বাঁচার বৃথা চেষ্টা করে সেখান থেকে বের হয়ে আসা ছাড়া উপায় ছিলো না। তবে, জোবেদা পোল্ট্রি ফার্ম থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে এলাকার মানুষ ভালো নেই। এলাকাবাসী এর প্রতিকার চাই।
ওই এলাকায় বসবাসকারী আব্দুল হামিদ বলেন, আমরা ভালো নেই। এতো দুর্গন্ধে কিভাবে থাকা যায়। যে টুকু সময় কাজের জন্য বাইরে থাকি সে সময়টুকু শান্তিতে থাকি। বাড়ীতে ফিরলেই দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। আমরা এর প্রতিকার চাই।

একই এলাকার কুরবান আলী ও বাহারন নেছা অভিযোগ করে বলেন, খুবই দুর্গন্ধ, আর থাকা যায় না। আমাদের বাড়ীতে শেয়ানা মেয়েরা আছে। যাদের বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। বিয়ের সম্মন্ধ আসলেও পরিবেশ দেখে বিয়ে ভেঙে যায়। শুধুই কি তাই! দুর্গন্ধের জন্য আমাদের কারও বাড়ীতে কোন আত্মীয়-স্বজন আসে না।

এলাকার ডালিম ও বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, দুর্গন্ধে তো থাকা যায়ই না, যখন ভাত খেতে বসি তখন ফ্যানের বাতাসে মুরগীর ছোট ছোট পাখনা উড়ে এসে ভাতের ভিতর পড়ে। মেয়রের কাছে বলেছি কিন্তু কোন প্রতিকার হয় নি। পোল্ট্রি ফার্মের মালিককে বললে তিনি হুমকী-ধামকী দিয়ে থামিয়ে রাখেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন ওই এলাকার পরিবেশের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বারবার লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয় নি। তারপরও আবার তাকে সতর্ক করার জন্য লিখিতভাবে জানাবো।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান বলেন, অতিরিক্ত দুর্গন্ধ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এতে স্বাসকষ্ট জনিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

পশ্চিমাঞ্চল/পল্টন…………………………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *