জীবননগর অফিস:চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রাম থেকে রাতের আধারে অপহরন হওয়া যুবককে পুলিশ ৬ দিন পর যশোর থেকে বুধবার রাতে উদ্ধার করেছেন। ছোট ভাইকে না পেয়ে বড় ভাইকে অপহরন করে দুর্বত্তরা। গত শনিবার রাতে পুরন্দরপুর গ্রাম অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে অপহরন করে। পরিবারের পক্ষ থেকে অপহৃত হাসানের পিতা ছোট ভাইয়ের স্ত্রীসহ চারজনকে আসামি করে একটি মামলা করে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
অপহরনের শিকার পরিবার সুত্র জানায়,জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের পুরন্দরপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম বিশ্বাসের ছোট ছেলে কাজল হোসেন(২২) যশোর এমএম কলেজ এ্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে (অনার্স) লেখাপড়া কালে ডলি খাতুন(৩৫) নামের দুই সন্তানের জননীকে বিয়ে করে। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বনাবানি না হওয়ায় কাজল তার ওই স্ত্রী তালাক দেয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্ত্রী ডলি খাতুন মোবাইল ফোনে কাজলকে নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকে। শনিবার রাতে কাজলের বড় ভাই হাসানকে(৩৫) বাড়ী থেকে অজ্ঞাত দুবর্ৃত্তরা অপহরন করে নিয়ে যায়।
অপহরনের শিকার যুবক হাসান(৩৫) বলেন,আমি শনিবার রাতে নিজ বাড়ীতেই ছিলাম। ওইদিন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে আমাদের বাড়ীর উঠান থেকে কিছু দুরে অবস্থিত ভেড়ার ঘর থেকে একটি ভেড়ার বাচ্চা পড়ে গেলে আমি তা তুলে দেয়ার জন্য সেখানে যাই। সেখানে ভেড়ার বাচ্চা তোলার মুহুর্তে অজ্ঞাত ৩-৪ জন লোক আমার মুখ চেপে ধরে টানতে টানতে বেশ কিছু দুর নিয়ে যায়। পরে মাঠের ভিতর গিয়ে আমার চোখ বেঁধে ফেলে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। অজ্ঞাত স্থানে তারা আমাকে মাঠের ভিতর একটি কুঁড়ে ঘরে চোখ বেঁধে রাখে এবং আমার মোবাইল ফোন দিয়ে আমার মাধ্যমেই পরিবারের নিকট দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করতে বলে। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় দু’দিন পর তারা পঁাচ লাখ টাকা দাবী করে। তার দু’দিন পর টাকা না পেয়ে দু’লাখ টাকা দিতে বলে। সর্বশেষ ৫০ হাজার টাকা দিলে মুক্তি দিবে বলে জানায়। আমার বাড়ী থেকে একটি মোবাইল নম্বরে ৫০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠায়। দুর্বত্তরা আমাকে সাথে নিয়ে বুধবার সকালে উক্ত টাকা উঠাতে শহরের দিকে নিলে আমি কৌশলে পালিয়ে বাড়ীর মোবাইল ফোন নম্বরে পালিয়ে আসার কথাটি জানাই। পরে জীবননগর থানার পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ(অপারেশন) মোল্যা সেলিম বলেন,অপহৃত হাসানের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ডলি খাতুন প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে তার লোকজন দিয়ে অপহরন করে নিয়ে যায়। তবে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আরো বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে এর সাথে আরো কারা জড়িত তা জানা যাবে।