জীবননগর কাটাপোলে ইউএনও’র ওপর হামলার সাথে জড়িত সন্দিগ্ধ ৩ জনসহ গ্রেফতার ৪

জীবননগর অফিস: জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মুনিম লিংকনের ওপর হামলার ঘটনায় গতকাল বুধবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম সরেজমিনে হাসাদাহ ইউনিয়নের কাটাপোল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বিকেলে ইউএনওর জীবননগরের সরকারি বাসভবনে যান ও তার সার্বিক খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি জীবননগর থানা পুলিশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হামলাকারীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এদিকে জীবননগর থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলার সাথে জড়িত সন্দিগ্ধ ৩ জনসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কাটাপোল গ্রামের মৃত তোফাজ্জেল ম-লের ছেলে তবিবার রহমান ম-ল (৫০), শুকুর আলীর ছেলে জয়নাল হোসেন (৩০), হাসাদাহের শহিদুল ইসলামের ছেলে শাহানুর রহমান (২৬) এবং নতুন চাকলা গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে নয়ন হোসেন (২৫)। এর আগে রাষ্ট্রীয় কাজে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ এনে ওই দিন রাতে ইউএনও মুনিম লিংকন জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লে¬খসহ অজ্ঞাত আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে নিহত মঈদুলের ভাতিজা দুর্ঘটনা ঘটানো ট্রাক্টরের ড্রাইভারকে আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।
জীবননগর থানা অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, আসামিদের গ্রেফতারে রাতভর অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ৩ জনসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য. জীবননগর উপজেলার কাটাপোল গ্রামে ইটভাটার মাটি টানা ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে মঈদুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ও শিশুপুত্র আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে উচ্ছৃঙ্খল কিছু মানুষের হামলায় রক্তাক্ত জখম হন ইউএনও এসএম মুনিম লিংকন।
এলাকাবাসী জানায়, কাটাপোল গ্রামের মাঠ হতে সাখাওয়াতের নেতৃত্বে একটি চক্র মজিবর রহমান ওরফে মন্টু মাস্টারের ফসলী ক্ষেতের টপ সয়েলসহ মাটি-বালু তুলে ইটভাটায় চড়া মূল্যে বিক্রি করছে। গ্রামবাসীর নিকট থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে ইউএনও মুনিম লিংকন গত ৯ মার্চ মোবাইল কোর্ট বসিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত আল-আমিন নামে একজনকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এসময় তিনি মাটি-বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন। ১০ মার্চ জরিমানার ৭০ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংক জীবননগর শাখার মাধ্যমে ২৬ নম্বর চালানে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়। জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হলেও ওই চক্রটি নিজেদের স্বার্থ হাসিলে জরিমানা নয় ইউএনওকে ওই টাকা ঘুষ দিয়ে মাটি-বালু তোলার অনুমতি নিয়েছে গ্রামে এমন মিথ্যা অপপ্রচার করে। গ্রামবাসী তাদের এ মিথ্যা অপপ্রচার সত্য বলে বিশ^াস করে ইউএনওর ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে পড়ে। মিথ্যা এমন রটনা রটিয়ে চক্রটি গত ৫ দিন ধরে অর্ধশত ট্রাক্টর ভিড়িয়ে দেদারছে মাটি ও বালু পরিবহন করতে থাকেন। এক সঙ্গে অর্ধশত ট্রাক্টরের বেপরোয়া গতিতে চলাচলের ফলে গ্রামটি ধুলাবালুর গ্রামে পরিণত হওয়াসহ প্রতিনিয়ত ছোট-খাটো দুর্ঘটনা ঘটাতে থাকে। মঙ্গলবার মাটি টানা ওই ট্রাক্টরের চাপায় মঈদুল ইসলাম নিহত হলে গ্রামবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে। তারা নিহত মঈদুলকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে দেয়নি। খবর পেয়ে জীবননগর থানা অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এর কিছুক্ষণ পর ইউএনও মুনিম লিংকন সেখানে পৌছান। মাটি কাটা চক্রটির ছড়িয়ে দেয়া মিথ্যা অপপ্রচারের সত্যতা যাচাই-বাছাই না করেই গ্রামবাসী ভুল ধারণা নিয়ে ইউএনও’র ওপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং নির্দয়ভাবে তাকে রক্তাক্ত করে বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়।
এদিকে ইউএনও’র ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টন্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ ফুসে উঠেছে। দাবি উঠেছে অন্যায়ভাবে ইউএনওর ওপর যারা হামলা করেছে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার।