জীবননগর অফিস ও উথলী প্রতিনিধি:জীবননগর উথলীতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী দামে সার বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কৃষকের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম মুনিম লিংকন কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় বেশী দামে সার বিক্রির অপরাধে তিন দোকানীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও পাবলিক প্লেসে ধুমপান করার অপরাধে এক ব্যক্তিকে ২শ’ টাকা জরিমানা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন সার ব্যবসায়ী দোকান গুলোতে সরকার নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে বেশী দামে সার বিক্রির অভিযোগ ওঠে । কৃষকের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এস.এম মুনিম লিংকন উথলী বাজারের তিনটি সার ও কীটনাশকের দোকানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় উথলী বাজারের মেসার্স মল্লিক ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী সার ব্যবসায়ী খালেদ মাসুদ(৪০)কে এক হাজার টাকা, মেসার্স রাজ ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকার সার ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম (২৮ কে এক হাজার টাকা ও মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী আনিছুর রহমান (৩৫) কে ভোক্তা অধিকার সংলক্ষণ আইনে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অভিযানকালে উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এস.এম মুনিম লিংকন জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃষককে ঠকিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী দামে সার বিক্রি করছে। কৃষকরা অভিযোগ দিলে এ সকল প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। ভবিষ্যতে বাজারে সারের মুল্য স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযোগ রয়েছে, জীবননগর উপজেলার বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলারসহ খুচরা সার বিক্রেতারা কৃষকের কাছে সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী দামে সার বিক্রি করছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এসকল অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রান্তিক চাষীদের তাদের নির্ধারিত মূল্যে সার না কিনলে বেচতে নারাজ। ভরা মৌসুমে হতদরিদ্র কৃষকরা তাদের ফসল লাগাতে অনেকটা বাধ্য হয়েই বেশী দামে সার কেনে। পরে নিরুপায় হয়ে কৃষকরা উপজেলা কৃষি অফিসে একের পর এক অভিযোগ দিতে থাকে। এসকল অভিযোগের ভিত্তিতে কৃষি অফিস মাঠ পর্যায়ে তদারকি করে সত্যতা পেয়ে অভিযান শুরু করে। জীবননগর বাজারে টিএসপি সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ১শ’ টাকা। কিন্তু বিসিআইসির সার ডিলার থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে বস্তা প্রতি হাতিয়ে নিচ্ছে ১ হাজার ৪শ’ টাকা। ডিএপি সারের সরকার নির্ধারিত মুল্য ৮শ’ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১শ’ টাকায়।