জীবননগর অফিসঃচুয়াডাঙ্গার জীবননগরে দুই বাড়িতে সঙ্ঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দিয়েছে। ডাকাত দলের সদস্যরা একটি বাড়ির তালা ভাংতে ব্যর্থ হয়ে পাশের বাড়ির গৃহকর্তাসহ পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জীবননগর পৌরএলাকার নারায়ণপুর গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটে । এর কয়েকদিন আগে ডাকাত দলের  সদস্যরা পার্শ্ববর্তী আরো এক বাড়িতে ঢুকে ঘরের তালা ভেঙে  কাউকে না পেয়ে চলে যায়।

জীবননগর থানার রাত্রিকালিন ডিউটিরত পুলিশের ২০ গজ দুরে ডাকাতি সংঘটিত হয় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তারা বলেন, সীমান্ত ব্রীকসের গোল ঘরে প্রায় দিন পুলিশ ডিউটি করে থাকেন। ওই দিন রাতে পুলিশ গোল ঘরে থাকা অবস্থায় একই রাস্তার পাশের বাড়িতে ডাকাতি চলছিল। তবে পুলিশ টহল ডিউটির কথা স্বীকার করলেও ঘটনাটি বুঝতে পারেনি বলে জানান।
ডাকাত দলের তান্ডবের শিকার গৃহকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, গত ২২ দিন আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নারায়ণপুর গ্রামে নিজের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এর আগে তিনি যাদবপুর গ্রামের বাবা মৃতঃ আফছার আলীর বাড়িতে থাকতেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি তার স্ত্রী বাড়ির বারান্দায় শুয়ে পড়েন। দুই  কামরার ঘরে একটিতে ছেলে ও তার স্ত্রী এবং অন্য একটি ঘরে মা ও তার মেয়ে ঘুমাতে যায়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দেশীয় অস্ত্র বড় দা আর হেঁসো  নিয়ে ১৭/১৮ জনের একদল ডাকাত বাড়ির ভিতর ঢুকে তাকে ও তার স্ত্রী কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে ডাকাত দলের সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে ৬/৭ জন ডাকাত পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে তাদের বেঁধে একটি ঘরে আটকে রাখেন।
প্রায় আধা ঘণ্টার তান্ডবে ডাকাতরা ঘরের সাব-বাক্স ভেঙে ভিতরে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকা,স্বর্ণের দুই জোড়া কানের দুল, একটি আংটি, দুইটি মোবাইল সহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এলাকাবাসী জানান, ডাকাত দলের সদস্যরা প্রথমে নারায়ণপুর গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ ‘র বাড়িতে হানা দেয়। কিন্তু বাড়ির সদর ক্রস্পিবল গেটের তালা ভাংতে ব্যর্থ হয়ে চলে আসে। পরে ডাকাতরা পাশ্ববর্তী হাবিবুরের বাড়িতে ডাকাতি করে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জনান, রাতেই পুলিশ খবর শুনে ঘটনাস্হল পরিদর্শন করেছে।  এই ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।