জীবননগর অফিস : জীবননগর উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রাম থেকে রাতের আধারে এক যুবককে অপহরন করার অভিযোগ উঠেছে। অপহৃত যুবককে ফিরে পেতে পরিবারের কাছে দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করা হয়েছে।অপহিৃত ঘটনায় পরিবারের সন্দেহের তীর ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর দিকে। শনিবার রাতে উপজেলার পুরন্দপুর গ্রাম থেকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা যুবক হাসানকে(৩৫)কে অপহরণ করে। পরিবারে পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়,জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের পুরন্দরপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম বিশ্বাসের ছোট ছেলে কাজল হোসেন(২২) যশোর এমএম কলেজ এ্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে (অনার্স) লেখাপড়া করা কালে ডলি খাতুন(৩৫) নামের দুই সন্তানের জননীকে বিয়ে করে। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বনাবানি না হওয়ায় কাজল তার স্ত্রীকে তালাক দেয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে উভয়ের ছাড়াছাড়িকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর পর কাজলকে নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকে। শনিবার রাতে কাজলের বড় ভাই হাসানকে(৩৫) বাড়ী থেকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা অপহরন করে নিয়ে যায়।
অপরহৃত যুবক হাসানের পিতা রবিউল ইসলাম বলেন,আমরা পরিবারের লোকজন প্রতিদিনের মত শনিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে যার যার ঘরে শুয়ে পড়ি। ওইদিন রাত নয়টার দিকে আমার বড় ছেলে হাসান বাড়ীর উঠানে টিউবওয়েলে যায়। দীর্ঘক্ষণ ছেলে ঘরে ফিরে না আসায় আমরা বিভিন্ন স্থানে খেঁাজাখুজি শুরু করি। পরে ভোর চারটার দিকে ফোন আসে তাকে অপহরন করা হয়েছে। একটি মাঠের ভিতরে শ্যালো মেশিনের ঘরে চোখ বেঁধে রাখা হয়েছে। দশ লাখ টাকা না দিলে তারা আমাকে জবাই করে ফেলবে। ছেলেকে নিয়ে আমরা শঙ্কার মধ্যে আছি। আমাদের সন্দেহ আমার ছোট ছেলে কাজলের তালাক দেয়া স্ত্রী ডলি ভাড়া করা সন্ত্রাসী দিয়ে আমার ছেলে হাসানকে অপহরন করেছে। তালাকের পর থেকে ডলি খাতুন আমাদেরকে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় ডলি খাতুনসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
হাসাদহ ইউনয়িন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য অমিদুল হক রতন বলেন,ঘটনার পর পরই আমরা অপহৃত হাসানকে উদ্ধার করতে বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি শুরু করি। ভোর চারটার দিকে মোবাইল ফোনে জানা যায়,সে অপহরন হয়েছে এবং দশ লাখ টাকা দিলে তাকে মুক্ত করে দেবে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন,অপহরণের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। অপহরণের অভিযোগের ব্যাপারে কোন রহস্য আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।