* ৬০০ কোটি টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধ করা হচ্ছে * বেসরকারি হাসপাতালও সরকারের প্রটোকল মেনে টিকা দিতে পারবে

বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও হাসপাতালের সঙ্গে সংযোগ রেখে টিকাদান কার্যক্রম চালাতে পারবে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পশ্চিমাঞ্চল রিপোর্ট:করোনা ভাইরাসের টিকা চলতি জানুয়ারি মাসেই দেশে আসছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার ৩ কোটি ডোজ করোনা ভ্যাকসিন আনা হবে। একজন মানুষের দুই ডোজ করে ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হবে। একটি ডোজের ২৮ দিন পর আরেকটি ডোজ দিতে হবে। সরকার এই টিকা কিনবে।

স্লাপাইয়ারের কাছ থেকে আনার খরচসহ প্রতি ডোজের দাম পড়বে ৫ ডলার। মোট ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার মধ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অগ্রিম পরিশোধ করা হবে ৬০০ কোটি টাকা। নিয়মানুযায়ী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকা, আমেরিকা, ইংল্যান্ডসহ সাতটি দেশ অনুমোদন দিলে সেটি যেকোনো দেশ ব্যবহার করতে পারবে। ইতিমধ্যে ইংল্যান্ড এই টিকার অনুমোদন দিয়েছে।

গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো কয়েকটি করোনার ভ্যাকসিন উৎপানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। যাতে দ্রুত চাহিদা মেটানো যায়।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন পাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকেও এগিয়ে আছি আমরা। ভ্যাকসিন দেশে আসার পরে মজুদ, সরবরাহ ও সঠিকভাবে বিতরণের সার্বিক প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যারা টিকা দেবেন তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে যে করোনার ভ্যাকসিন আসছে সেটির তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এছাড়া টিকা মাইনাস ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রাখতে হবে। অর্থাৎ ইপিআই টিকার মতো একই তাপমাত্রায় রাখা যাবে। প্রতিটি জেলায় টিকা রাখার জন্য পর্যাপ্ত ফ্রিজ আগে থেকেই আছে। নতুন করে আরো কিছু ফ্রিজ কেনা হয়েছে। টিকা মাঠ পর্যায়ে কীভাবে যাবে সেটিও প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ দেশে আসছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন আসবে। সরকারের প্রটোকল মেনে বেসরকারি হাসপাতালগুলো টিকা আনতে পারবে এবং টিকা দিতে পারবে। বড় বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থেকে সরকারের প্রটোকল মেনে টিকাদান কার্যক্রম চালাতে পারবে। করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটিও এমনটি সুপারিশ করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কারা টিকা পাবে তার একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৮ বছরের নিচের কাউকে টিকা দেওয়া হবে না। এছাড়া গর্ভবতী মহিলা ও হাইরিস্কেরি রোগীদের টিকা দেওয়া হবে না। এই হিসাবে ৪০ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় আসবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের একজন করে প্রতিনিধি রয়েছে। কারা টিকা পাবে তার একটি তালিকা প্রণয়নের কাজ এই কমিটি করছে।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বেসরকারি হাসপাতালগুলো এগিয়ে এসেছিল। তাদের ভূমিকা সন্তোষজনক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে করোনার টিকার জন্য ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রতি বছর সাড়ে ৩ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। ফলে প্রতি মাসে যে ৫০ লাখ করে টিকা আসবে, সেটার ব্যবস্থাপনা খুব একটা কঠিন হবে না। এমনকি বেশি এলেও কোনো সমস্যা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *