জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় নুরুল্লাপুর বিল পুনঃখননে গ্রামবাসির বাধা

 

হাজার বিঘা আবাদি জমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা

তিতুদহ প্রতিনিধি:চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের বিলের মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন
জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় নুরুল্লাপুর বিল পুনঃখনন কার্যক্রম এর ২০২০/ ২০২১ অর্থবছরের গত রবিবার শুভ উদ্বোধন এর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে নুরুল্লাপুর বিলের মৎস্য সমবায় সমিতি। কিন্তু গ্রামবাসীর সাথে থাকা হাজারবিঘা আবাদি জমি চাষের অযোগ্য হয়ে হওয়ার সম্ভাবনার কারণে ফুঁসে উঠেছেন গ্রামবাসী। যার জন্য চলছে গ্রামবাসীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা। খুব শীঘ্রই গণস্বাক্ষর যুক্ত স্মারকলিপি ডিসি অফিসে জমা প্রদান করবেন নুরুল্লাপুর গ্রামবাসী।

গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫ টার দিকে নুরুল্লাপুর গ্রামবাসীসহ আশেপাশের আরও তিনটি গ্রামের মানুষ বিল পূর্ণ খননের কাজে বাধা প্রদান করে। এ সময় তারা বলেন বিলের জলমহল পুনঃখনন করায় আশপাশের ৩টি গ্রামের প্রায় ১ হাজার বিঘা আবাদি জমির ফসলের ক্ষতি হবার আশঙ্কায় ৩ গ্রামের ভূক্তভোগীরা একত্রিত হয়ে এই বিল পুনঃখননের কাজের বিরোধিতা করেন। এবং খনন কাজ বন্ধের দাবি করেন।এর আগেও বিলটি পুনঃখনন করার অনুমতি দিলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন বিল পুনঃখননের কাজটি বন্ধ করে দেয়।

ভুক্তভোগীরা সংবাদকর্মীদের জানায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর বিলের জলমহাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয় গত রোববার। উদ্বোধনের দিন থেকেই গ্রামবাসীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করতে থাকে। তাদের অভিযোগ বিল পুনঃখনন করা হলে এর চারপাশে উচু পাড় করা হবে যার কারনে নুরুল্লাপুর, হারদা চাঁদপুর এবং বেগমপুরের ঝাঁঝরি গ্রামের প্রায় ১ হাজার বিঘা আবাদি জমি জলাবদ্ধতার কারনে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবং উক্ত চাষযোগ্য জমি গুলো অনাবাদিতে পরিণত হবে। এই সকল জমিতে ধানসহ ভূট্রার চাষ করে থাকে গরীব ও অসহায় চাষীরা । অন্যদিকে গ্রামবাসীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে বিলটিতে বছর খানেক আগে খন্ড খন্ড বাঁধ দিয়ে পুকুর আকৃতি তৈরি করে বিল কমিটি। যার কারনে বিলের স্বাভাবিক গতিপথ ও আকৃতি ব্যাহত করে।বিলের সৌন্দর্য বিনষ্ঠ ও ভৌগোলিক রুপ পরিবর্তন হয়।এর কারনে বিলের পার্শ্ববর্তী প্রান্তিক চাষীদের চলতি মৌরসুমে প্রায় ১৪৭ বিঘা ধানী জমির প্রায় দেড় হাজার টন ধান উৎপাধন ব্যাহত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন গ্রামবাসী।
আবারো দীর্ঘদিন পর গত রোববার বিল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে।যার কারনে আবারো গ্রামবাসীরা ফুঁসে উঠেছে।চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে তাদের মাঝে।গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে এর পুনঃখনন কাজ বন্ধ ও ফসলী জমি রক্ষার দাবি করেন। নুরুল্লাপুর গ্রামের প্রায় ৮০জন প্রান্তিক চাষীর জমি সেখানে রয়েছে।এছাড়াও বিলের চারপাশে হারদা চাঁদপুর ও ঝাঝরি গ্রামের শত মানুষের আবাদি জমি রয়েছে।

এ সময় উক্ত গ্রামবাসী জেলা প্রশাসকের উদ্দেশ্য করে বলেন আমরা গরীব অসহায় প্রান্তিক চাষী। নুরুললা পুরের এই বিল পুনঃখনন হলে আমরা অনেক সমস্যায় পরবো। তাই বিলটি খনন কাজ বন্ধ করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।