স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে করোনাভাইরাসের টিকা কেন্দ্রে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রচন্ড ভিড়ের কারণে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন টিকা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। উপচে পড়া ভিড় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। আবার টিকা কেন্দ্রে দায়ীত্বরতদের স্বজনপ্রীতি করতেও দেখা গেছে। মানুষের গাদাগাদিতে অনেকেই টিকা নিতে না পেরে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বারবার বলার পরও টিকা গ্রহনের বার্তা (মেসেজ) ছাড়াই তারা টিকা কেন্দ্রে ভিড় করছেন। ফলে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। আবার টিকা নিতে আসা অনেকেই দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে আগে যাওয়ার তাগিদে একে অপরের সাথে হাতাহাতি করতে দেখা গেছে। হাসপাতালে নিয়জিত পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে করোনার সংক্রমন বাড়বে বলে ধারণা স্থানীয়দের।


সরজমিনে দেখা যায়, গত শনিবার (১৪ আগস্ট) ও সোমবার (১৬ আগস্ট) সকাল ৭ টা থেকে অনেক নারী-পুরুষ সদর হাসপাতালের পুরাতন ভবনের টিকা কেন্দ্রের সামনে ভিড় জমিয়েছেন। সকাল ৯ টা বাজার সাথে সাথে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। টিকা কেন্দ্র থেকে দীর্ঘলাইন সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের মেইন গেইট পর্যন্ত এবং নারী-পুরুষের এবং অপর লাইনটি সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের জরুরি বিভাগ ছাড়িয়ে যেতে দেখা গেছে। তবে দীর্ঘ লাইন থাকলেও এদের অধীকাংশই টিকার গ্রহনে বার্তা না পেয়ে চলে এসেছেন। টিকা গ্রহন করতে আসা নারী-পুরুষদের অধিকাংশেরই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। সামাজিক দুরত্ব দুরের কথা। অধিকাংশেরই মুখে ছিলনা মাস্ক। এতে সংক্রমনের ঝুকি বাড়ছে। আবার কেউ কেউ চাইছেন সামনের জনকে ঠেলে টিকা কেন্দ্রের মধ্যে প্রবেশ করতে। এতে চরম বিশৃংখল হতে দেখা যায়। এসময় অনেকের দাবি ভিড় এড়াতে টিকা কেন্দ্র বাড়ানো হোক। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি বলে মন্তব্য করতে শোনা যায়। ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধা বলেন, দুদিন আগে আমার মেসেজ এসেছে ছেলের ফোনে। সকাল ৯ টার এসেছি। তিন ঘন্টা পার হলেও টিকা কেন্দ্রের ভিতরে যেতে পারিনি। এই গরমে আর তিব্র রোদে দাঁড়িয়ে আছি। তিনি আরও বলেন, আমার পরে এসেও অনেক লোক টিকা দিয়ে চলে গেছে। টিকা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা তাদের পরিচিত লোকজনকে আগে টিকা দিয়ে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন এই বৃদ্ধা।এখানে কোন স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই।
টিকা নিতে আসা অধিকাংশ নারী-পুরুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি ৩-৪ দিন আগে টিকার জন্য রেজিস্টেশন করেছেন। তাদের এখনো এসএমএস আসেনি। টিকার মজুদ শেষ হবার আগেই কেন্দ্রে এসেছে। আবার কেউ কেউ চাকরিতে যোগদান, বিদেশে যাবেন বলে এসেছেন। হাসপাতালে এসে দেখেন খোদ স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি।
চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুয়ায়ী মেসেজ ছাড়া কাউকে টিকা দেয়া হচ্ছে না। তবুও মানুষ ভিড় করছে। এর আগে মাইকিং এবং পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানানো হয়েছে মেসেজ ছাড়া কেউ টিকা কেন্দ্র না আসার। যারা মেসেজ ছাড়া আসছেন তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। কোনভাবেই মানুষকে বোঝানো যাচ্ছেনা। এতে স্বাস্থ্যবিধির ঝুকি বাড়বে। তিনি আরও বলেন, টিকার কোন ঘাটতি নাই। সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে।