স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড থেকে আলী আকবর নামের একজনকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে তাকে আটক করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটককৃত আলী আকবর (৩০) চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কেদারগঞ্জ নতুন বাজার এলাকার আজিজুল হকের ছেলে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, আজিজুর রহমান নামের এক রোগী আইসোলেশনে ভর্তি আছে। গতকাল রাতে ওই রোগীর শরীরে ইনজেকশন পুশ করছিলেন আলী আকবর নামের ওই ব্যাক্তি। ইনজেকশন ক্যানোলার মাধ্যমে রোগীর শরীরে পুশ করার নিয়ম থাকলও ওই ব্যাক্তি সরাসরি রোগীর শরীরে পুশ করেন। এ সময় তাকে সেখান থেকে হাতেনাতে ধরা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফাতেহ্ আকরাম বলেন,ওই ব্যাক্তি কারও অনুমতি ছাড়াই হাসপাতালের আইসোলেমনে ভর্তি থাকা রোগীদের ওষুধ দিয়ে বেড়াচ্ছিল। রোগীর অনুমতি ছাড়াই একটি অ্যান্টিভাইরাল ইনজেকশন রোগীর শরীরে সরাসরি পুশ করে, যা স্যালাইনের মাধ্যমে দেয়া উচিত ছিল। এতে রোগীর শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ওই ব্যাক্তি এর আগেও হাসপাতালে এসে বিভিন্ন রোগীর সেবা দিয়েছে। আমরা তাকে হাসপাতালে না আমার জন্য সতর্ক করেছিলাম। তারপরও তিনি হাসপাতালে আসেন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আজিজুর রহমান নামের এক রোগীকে বেশ কিছুদিন ধরে সেবা করে আসছিলেন আলী আকবর। প্রতিদিনের মতো গতকালও তিনি ওই রোগীর শরীরে ইনজেমশন পুশ করেন। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত থাকা চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্টাফরা তাকে আটক করে।খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে প্রয়োজনের থেকে জনবল কম। চিকিৎসা দিতে দেরী হওয়ার কারনে রোগীর স্বজনরাই আলী আকবরকে হাসপাতালে ডেকে নিয়ে তার দিয়ে ওই রোগীর সেবা করীয়ে নেয়। এ ঘটনায় রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে তেমন কোন অভিযোগ করা হয়নি।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান বলেন, সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আলী আকবর নামের একজনকে আটক করে আমাদের কাছে সোপর্দ করেন। তার বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত সুনিদৃষ্ট তেমন কোন অভিযোগ কেউ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।