কালীগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির বন্ধ থাকা আলমডাঙ্গা রুটে ১৬টি ট্রিপ দাবি

জীবননগর অফিস: চুয়াডাঙ্গা-যশোর ভায়া জীবননগর-কালীগঞ্জ রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে কালীগঞ্জ মোটর মালিক সমিতি। গতকাল রোববার সকাল থেকে সরাসরি এ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে হাসাদহ পর্যন্ত বাস চলাচল করছে। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বন্ধ থাকা কালীগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির আলমডাঙ্গা রুটে ১৬টি ট্রিপ দাবি করায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা মালিক সমিতির বাস নিয়মিত সরাসরি যশোর পর্যন্ত চলাচল করে থাকে। অপর দিকে কালীগঞ্জ ও যশোর মালিক সমিতির বাস যশোর থেকে ছেড়ে এসে চুয়াডাঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করে। উভয়পক্ষের মালিক সমিতির ভিতরে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ায় যশোর ও কালীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির বাস হাসাদাহ পর্যন্ত চলাচল করছে। এতে যাত্রী সাধারণ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। কয়েক বছর আগেও ঠিক এরকম অবস্থার সৃষ্টি হলে মীমাংসা হতে দীর্ঘসময় লাগলেও পরবর্তীতে তা নিষ্পত্তি হয়। আবারও মালিক সমিতির আন্তঃদ্বন্দ্বের কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হওয়াতে চাকরিজীবী, বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুসহ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম মঈন উদ্দীন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারকে সৃষ্ট সংকট সম্পর্কে অবহিত করেছেন। একই সাথে চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘ ১০ বছর আগে থেকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে আলমডাঙ্গা রুটে কালিগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির ১৬টি ট্রিপ চলাচল করতো। অদ্যবদি কালীগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির আর কোনো বাস ওই সড়কে চলাচল করে না। গত ১০ অক্টোবর কালীগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির কার্যালয়ে একটি যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কে বাস চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট দুই ঘণ্টা সময় দেয়ার জন্য প্রস্তাব করেন। ওই প্রস্তাবের আলোকে চুয়াডাঙ্গা ও কালীগঞ্জ মোটর মালিক সমিতি ১৫ দিনের সময় চেয়ে নেয়। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া জেলার দুই মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া ভায়া আলমডাঙ্গা সড়কে চুয়াডাঙ্গা জেলার দুই মালিক সমিতি, কুষ্টিয়া জেলার দুই মালিক সমিতি মোট চারটি মালিক সমিতির বাস চলাচলের কারণে আমরা তাদের চাহিদা মতো নির্দিষ্ট দুই ঘণ্টা সময় দিতে অপরাগতা প্রকাশ করি। পূর্বে ন্যায় ১০টি ট্রিপে বাস পরিচালনার জন্য একটি রোটেশন তৈরি করে কালীগঞ্জ মোটর মালিক সমিতি ও যশোর মিনিবাস ও বাস মালিক সমিতি বরাবর প্রেরণ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাথে কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই রোববার সকাল থেকে হাসাদহ পর্যন্ত বাস চলাচল করবে। আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কে আমাদের নির্দিষ্ট দুই ঘণ্টা সময় যতোদিন না দেবে ততোদিন বাস হাসাদহ পর্যন্ত চলাচল করবে এবং কোনো মতে যশোর পর্যন্ত বাস চলাচল করতে পারবে না। চুয়াডাঙ্গা হতে যশোর পর্যন্ত সরাসরি বাস চলাচল না করলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম মঈন উদ্দীন জানান, সরাসরি বাস চলাচল করতে পারে সেজন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করে পত্র পাঠিয়েছেন।
প্রসঙ্গত: চুয়াডাঙ্গা-যশোর ভায়া জীবননগর রুটে চুয়াডাঙ্গা থেকে ৪০টি বাস চলাচল করে। এরমধ্যে খুলনা রুটের বাসও রয়েছে। ২০১৩ সালে একই রুটে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে কালিগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির বাধার মুখে ২০ মাস ১১দিন সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ ছিলো। ওই সময়েও হাসাদহ পর্যন্ত বাস চলাচল করতো।