সবাইকে টিকার আওতায় আনবে আ’লীগ সরকার -এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার

পশ্চিমাঞ্চল রিপোর্ট:

  সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর-ঝিনাইদহে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার এ ক্যাম্পেইনের উদ্বাধন করা হয়। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে।
আমাদের ষ্টাফ রিপোর্টার জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলায় উপজেলা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনের উদ্ভোদন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতকাল শনিবার সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের রিজিয়া খাতুন প্রভাতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি এই ক্যাম্পেইন উদ্বোদন করেন।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে গ্রামের মানুষ করোনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আমাদের জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমে গ্রাম-গঞ্জেও টিকা পৌঁছে দিয়েছেন। টিকার কোন ঘাটতি থাকবে না। সবাইকে টিকার আওতায় আনবে আ.লীগ সরকার। টিকা নিশ্চিত করা না গেলে কোনোভাবেই মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না। এখন টিকা নেয়ার বিষয়ে সবার মাঝেই আগ্রহ লক্ষণীয়। টিকা কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভীড়ই বলে দিচ্ছে সবাই এখন টিকা নিতে আগ্রহী।
চুয়াডাঙ্গার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, চুয়াডাঙ্গায় জেলায় ৫৩ টি কেন্দ্রে ১১৯ টি বুথে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত ২৫ বছরের উর্দ্ধে ২৩ হাজার ৮শ’ নারী-পুরুষকে প্রথম ডোজের টিকা দেয়া হবে। জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে দিনে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে টিকাকেন্দ্র পরিচালনা করা হবে। সেখানে তিনটি বুথ থাকবে। পৌরসভার ক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে টিকাকেন্দ্র থাকবে।
এদিকে, সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে টিকা নিতে আগ্রহী নারী-পুরুষের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক, পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন, সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফাতেহ্ আকরাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)’র চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি ডা. মার্টিন হীরক চৌধুরী, পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান, মুফতি লিটু ও ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান চাঁদ প্রমুখ।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন: মেহেরপুর জেলায় করোনা ভাইরাসের গণটিকা দান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলার ৩টি স্থায়ী ও ২৮টি গণটিকা কেন্দ্রের মাধ্যমে গতকাল শনিবার ১২ হাজার ৮০০ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২৮টি গণ টিকাদান কেন্দ্রে টিকা দান শুরু হলেও সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে গাংনী উপজেলায় গণটিকা দান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান। গতকাল শনিবার সকালে হিজলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাহারবাটি ইউনিয়ন গণটিকা দান কেন্দ্র তিনি উদ্বোধন করেন।
এদিকে জেলায় এষ্ট্রাজেনিকার টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার সকাল থেকে। গেল ৭ ফেব্রুয়ারী শুরু হওয়া টিকা কার্যক্রমে যারা প্রথম ডোজ পেয়ে দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষমান ছিলেন তাদেরকে এষ্ট্রাজেনিকার টিকা দেওয়া হচ্ছে।

মহেশপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন: ঝিনাইদহের মহেশপুর কোভিড-১৯ প্রতিনিরোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণ টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার এসবিকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্বাশতী শীল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি থেকে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ- ৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডঃ শফিকুল আজম খাঁন চঞ্চল।
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান ময়জ্জদ্দীন হামিদ, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ, সাধারণ সম্পাদক মীর সুলতানুজ্জামান লিটন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক আজা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হাসিবুস সাত্তার, ইউপি চেয়ারম্যান আরিফান হাসান চৌধুরী প্রমুখ। আরও উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুস সেলিম, এসবিকে ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বগা, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী সরদার, মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক কাজী আতিয়ার রহমান, যুগ্ম আহবায়ক ইয়াকুব আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান বিপাশ, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল খাঁন প্রমুখ।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শনিবার সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। এসময় বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান। অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা: সেলিনা বেগম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শাহীন। পরে টিকাদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। ৫নং কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নে টিকাদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ জেলা আ’লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সংগ্রামী সভাপতি আহাদুর রহমান খোকন ও পৌর আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু। একই সময় সদর উপজেলার ২নং মধুহাটি, ৭নং মহারাজপুর, ১নং সাধুহাটি ও ৬নং গান্না ইউনিয়নে চলে টিকাদান কর্মসূচী। এসময় মধুহাটি ইউনিয়নে চেয়াম্যান ফারুক হোসেন জুয়েল, মহারাজপুর ইউনিয়নে চেয়াম্যান খুরশিদ আলম, সাধুহাটি ইউনিয়নে , চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দিন, গান্না ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান রিপনসহ স্বাস্থ্যকর্মি , ট্যাগ অফিসার ও ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। ঝিনাইদহের এসিল্যান্ড ও এক্সিকিউটিব ম্যাজিষ্ট্রট আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রত্যেকটি টিকা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এছাড়াও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে সেখানে পুলিশ সদস্য ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইউনিয়ন গুলিতে ৩ টি করে বুথ স্থাপন করে বয়স্ক, প্রতিটি কেন্দ্রে ২জন সুপারভাইজার ও ১৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী টিকাদান কাজে কাজ করেন। নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদাণ করা হয়। অপরদিকে জেলার শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি ইউনিয়ন পরিষদে টিকা নিতে সকাল থেকেই হাজির হয় নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেখানে চলে গণটিকাদান কর্মসূচী। কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ইয়ারুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা লিজা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পার্থ প্রতিম শীল, স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সারাদেশের ন্যায় ঝিনাইদহের ৬৭ টি ইউনিয়ন ও ৬ টি পৌরসভায় পরীক্ষামুলক ভাবে এ টিকাদান চলছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়নের ১টি কেন্দ্রে ৩টি বুথে টিকা প্রদান করা হয়।
আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছেন: আলমডাঙ্গার পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণ টিকাদান শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার পৌর এলাকার সরকারী কলেজ প্রাঙ্গণে ৪ নং ওয়ার্ড, আল ইকরা ক্যাডেড একাডেমিতে ১ নং ওয়ার্ড ও এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের টিকা প্রদান করা হয়। আলমডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব হাসান কাদির গনু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- আলমডাঙ্গা সরকারী কণেজের অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার, ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সদর উদ্দিন ভোলা, ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলাল উদ্দিন, ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফুল হোসেন বাবু, আলমডাঙ্গা পৌরসভার টিকাদান সহকারী বিল্লাল হোসেন, মাহফুজুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, আমিরুল ইসলাম, সোহাগ, উল্লেখ্য প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে ১টি ওয়ার্ডে টিকা প্রদান কার্যক্রম চলবে।
দামুড়হুদা অফিস থেকে, তানজীর ফয়সাল জানিয়েছেন, সরকারী নির্দেশনায় জেলা প্রশাসক এর নেতৃত্বে দামুড়হুদা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়ন ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উৎসবমুখর পরিবেশে কোভিড-১৯ এর টিকাদান কর্মসূচি কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন কারা হয়েছে। শনিবার সকাল ৯ টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভার সন্মেলন কক্ষে টিকাদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমানের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলি মুনছুর বাবু উপজেলা ব্যাপী কোভিড-১৯ এর টিকাদান কার্যক্রম কর্মসূচি’র শুভ উদ্বোধন করেন।উদ্বোধন কালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান মঞ্জু, পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ।
উদ্বোধন শেষে টিকাদান কর্মসূচির সকল কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন করেন। উপজেলার পৌর সহ সকল ইউনিয়নে সফল ভাবে ৪ হাজার ৮’শ নারী-পুরুষের মাঝে মহামারি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কোভিড-১৯ এর টিকা প্রদান সম্পন্ন করা হয়। এ টিকাদান প্রদান কার্যক্রম কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের।টিকাদান কার্যক্রমে প্রদানে লক্ষ্য করা গেছে পুরুষের চাইতে নারীদের অংশগ্রহণ। টিকাদান কার্যক্রম চলেন সকাল ৯ ঘটিকা থেকে বিকাল ৩ ঘটিকা পর্যন্ত। এসময় উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ পৌর মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ। প্রতিটি কেন্দ্রে ট্যাগ অফিসার, তদারকি কর্মকর্তা, পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ সদস্যরা আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলি মুনসুর বাবু রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করে স্বল্প সময়ে টিকা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে বলেন,উপজেলাতে পৌর ও সকল ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ কোভিড-১৯ এর টিকা দান কার্যক্রম মানুষের দৌঁড় গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
জীবননগর অফিস জানিয়েছেন: জীবননগরে গণ টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৯ টায় উপজেলার উথলী বালিকা বিদ্যালয় ও জীবননগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। উথলী বালিকা বিদ্যালয়ে জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম, পৌরসভায় মেয়র রফিকুল ইসলাম ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের করেন।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাজিয়া আফরিন উপজেলার কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় জীবননগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
পৌর স্যানিটারী ইন্সপেক্টর জামাল হোসেন জানায়, পৌরসভার তিনটি কেন্দ্র সুবলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দৌলৎগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভ্যাকসিনেশন কর্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনে পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডের ৬০০ জন কে টিকার আওতায় আনার নির্ধারন করা হলে দিন শেষে শতভাগ সম্পন্ন হয়। পর পর তিন দিনে পৌরসভার ১ হাজার ৮০০ জনকে টিকার আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, উপজেলার ইউনিয়ন ভিত্তিক চারটি কেন্দ্র হচ্ছে উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর ও গয়েশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। চারটি কেন্দ্রে প্রথম দিনে ২ হাজার ৪০০ জনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়। দিন শেষে ২ হাজার ৩৮৯ জন ভ্যাকসিনেশনের আওতায় প্রথম ডোজ নেন। এই চারটি কেন্দ্রে ১১ জন টিকা নিতে আসে নি।
জীবননগর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সেলিমা আখতার জানান, জীবননগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন রয়েছে। পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডের তিনটি কেন্দ্রে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার আটটি ইউনিয়নের চারটি কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জয়রামপুর প্রতিনিধি জানিয়েছে: দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড পর্যায়ে কোভিড-১৯ এর টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, সারা বাংলাদেশের ন্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্তিক প্রচেষ্টায় দামুড়হুদা উপজেলায় সকল ইউনিয়নে ওয়ার্ড পর্যায়ের কোভিড ১৯ এর টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার থেকে। সরকার প্রাথমিকভাবে ১৮ বছরের বেশী বয়সীদের টিকা দেয়ার বিষয়ে চিন্তা করলেও পরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, (রাজস্ব) উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার, সাজিয়া আফরীন, এসময় তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন বর্তমান সরকার করোনা মহামারী থেকে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশব্যাপী ও অঞ্চলভিত্তিক লকডাউন কার্যকরসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি দরিদ্র মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতা প্রদানসহ জীবিকা ও অর্থনীতি বাঁচাতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনসহ করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের জন্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, যথাসময়ে টেস্টিং কিট আমদানি এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ল্যাব স্থাপনসহ করোনা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করায় ভাইরাসের বিস্তার রোধে দক্ষিণ এশিয়াসহ অনেক উন্নত দেশের চেয়ে বাংলাদেশ সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। তাই সকলে কোভিড ১৯ এর ভ্যাকসিন টিকা নিই সুস্থ থাকি।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত কুমার সিংহ। হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন। হাউলী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খোকন, হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নাঈম উদ্দিন, ও দুই জন ট্যাগ অফিসার দামুড়হুদা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সানোয়ার হোসেন, একাডেমিক সুপারভাইজার রাফিজুল ইসলাম, জয়রামপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসা সুপার শহিদুল ইসলাম, মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, আনসার ভিডিপি অফিসার আশরাফুল আলম, চুয়াডাঙ্গা জেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এম কাবিল উদ্দিন, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম টিক্কা, সাবিনা ইয়াসমিন প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম।
আন্দুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন: দেশব্যাপী গণহারে টিকাদান ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কোভিড-১৯ টিকাদান কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে একযোগে দেশের সকল ইউনিয়নে টিকাদান ক্যাম্পেইন কর্মসূচী পালনে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়ায় কোভিড-১৯ টিকাদান ক্যাম্পেইন এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকাল ৯ টায় আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কোভিড-১৯ টিকাদান ক্যাম্পেইন এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম মধু, শাহাপুর পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ জমির উদ্দিন টু-আইসি ইন্দ্রজিৎ কুমার প্রমুখ।
এ সময় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ হতে জানানো হয় দিনব্যাপি ইউনিয়নের ৬০০ জন কে টিকা দেওয়া হবে। উক্ত কর্মসূচিতে সার্বিক সহোযোগিতা ও সেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শেখ বিল্লাল হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও তরুণ সাংবাদিক এস এম নাসিম উদ্দিন, আন্দুলবাড়ীয়ার স্বাস্থ্য সহকারীগণ, রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন, এছাড়াও সার্বিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় শাহাপুর পুলিশ ফাঁড়ী ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।