হুমকি-ধামকি দিয়ে লাভ হবে না : সুষ্ঠু নির্বাচন করতে যা যা করার দরকার করবো

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে প্রার্থীদের সাথে আইন-শৃংখলা বিষয়ক মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয় বুধবার সকালে কাউন্সিলর প্রার্থী বিল্লাল হোসেন বেল্টুর আকস্মিক মৃত্যুর কারনে ১নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তারেক আহমেমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম ও খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বক্তব্য রাখেন। সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরিন উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময়সভায় মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মালিক, সিরাজুল ইসলাম মনি, মজিবুল হক মালিক মজু, মনিবুল হাসান পলাশ, তুষার ইমরান ও তানভীর আহমেদ মাসরিকী, সাধারণ কাউন্সিলর ৪নং ওয়ার্ডের মাফিজুর রহমান, ৬নং ওয়ার্ডের আজাদ আলী, ৮নং ওয়ার্ডের শের আলী, ৯নং ওয়ার্ডের কামরুজ্জামান চাঁদ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর ১ ওয়ার্ডে নাসরিন পারভীন, ৩নং ওয়ার্ডের শাহান খাতুন ও ৩নং ওয়ার্ডের আন্না খাতুন নির্বাচনে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা ও ব্যানার তুলে ফেলা বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বক্তব্য রাখেন।

মতবিনিময়সভায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে যা যা করার দরকার করবো। যদি কোনো অভিযোগ দেন তার ব্যবস্থা নেয়া হবে। আচরণবিধি ভঙ্গ করলে শাস্তির আওতায় আনা হবে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবে। হার মেনে নিতে হবে। আমাদের আচার আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। জিতে গেছেন বলে সহনশীল হতে হবে। জীবন যাত্রার মান বেড়েছে। হুমকি-ধামকি দিয়ে লাভ হবে না। ৬ মাসের জেল ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। প্রমাণসহ প্রশাসনের হাতে তুলে দেবেন। দুর্নীতি, মাদক ও বাল্যবিয়ের বিষয়ে জিরো টলারেন্স। মাদকের জন্য প্রার্থীতা থাকবে না। ইভিএম স্বচ্ছতার সাথে ভোট হবে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর প্রতিটি কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক ইভিএমএ ভোটগ্রহণ করা হবে। পোস্টার ছেঁড়া আনারা ধরিয়ে দেবেন। আইন ভঙ্গ হলে শাস্তি দেবো। নির্বাচনী গণজমায়েতে করোনা বিষয়ে মাথায় রাখবেন। স্বাস্থ্যবিধি বিষয়টা মেনে চলবেন। আপনারা সহযোগিতা করলে অবাধ ও নিরপেক্ষ পৌর নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।

সভায় পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে সমস্যা হবে না। বদলীর ভয় নেই। এ পর্যন্ত জেলায় ৪টা নির্বাচন করেছি। আমাদের কাছে চাপ বেড়ে গেছে। গ্রাম গঞ্জে ভালো করেছি। শহরে ভালো করতে হবে। অনটেস্ট মোটরসাইকেল বন্ধ করতে হবে। সবার সহযোগিতায় উদাহরণ দেয়ার মতো নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।

খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, ইভিএম নতুন প্রযুক্তি। গড়াইটুপি নির্বাচন হয়েছে। সেটা সুন্দর হয়েছে। যারা ফেসবুক চালাতে পারবেন তারা ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনের পূর্বে ভোট দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। ১নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ভোট স্থগিত থাকবে। নতুন সিডিউল হবে। প্রশাসন শক্ত আছে সব জায়গায়। ২৬ ডিসেম্বর রাত ১২টার পর ভোটারদের কাছে যেতে পারবেন না। নির্বাচনের পর ৪৮ ঘণ্টা মিছিল করা যাবে না। গাড়ি অনুমোদন নিয়ে নেবেন। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ৩০ দিনের মধ্যে সব প্রার্থীকেই জমা দিতে হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার তারেক আহমেমদ বলেন, নির্বাচনে ৬০০ জন কর্মকর্তা কাজ করবেন। পৌর এলাকার ৩৩টি কেন্দ্রে ২৬ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলক ইভিএম-এ ভোট দিতে ভোটার আসতে পারবেন। এছাড়া স্থানীয় ডিস ক্যাবল সিএনএন ভোট কিভাবে দেয়া হবে তা দেখানো হচ্ছে।