বিশেষ প্রতিনিধি: আসন্ন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্র মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক সফল রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন হেলার সভাপতিত্বে সভায় অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি দৈনিক মাথাভাঙ্গার সম্পাদক ও প্রকাশক সরদার আল-আমিন,সাধারণ সম্পাদক রাজীব হাসান কচি, দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামীলিগের নির্বাহী সদস্য পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড.বেলাল হোসেন ও জেলা পরিষদ সদস্য শহিাদুল ইসলাম।
মত বিনিময় সভায় সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন তাঁর মেয়াদকালের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে,প্রশাসনিক দক্ষতার ধারাবাহিকতা রেখে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মানুষের জীবন-যাত্রার মান উন্নয়ন করতে যে প্লান ও কর্ম পরিকল্পনা বা উন্নয়ন রুপরেখা তৈরী করে বিশ্বের দাতা সংস্থাগুলোর কাছে আবেদন করেছিলাম ,তা চুয়াডাঙ্গার বর্তমান পৌর পরিষদ যথাযথভাবে কাছে লাগাতে পারেনি। একটি প্রকল্প থেকে আমার করা আবেদনে দাতা সংস্থা ৮০ কোটি টাকা দিয়েছিল। সে বরাদ্দের টাকা নয়-ছয় করে বর্তমান মেয়র ৪০ কোটি টাকার কাজ করতে পেরেছে। শর্ত পূরণ করতে না পারায় বাকি ৪০ কোটি টাকার কাজ করতে পারছে না পৌর কতৃর্পক্ষ। আমি যখন পৌরসভা রেখে আসি তখন কোন পৌর কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ১ মাসেরও বেতন বকেয়া ছিল না। কিন্তু বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসের পর মাস বেতন বকেয়া। পৌরসভার রাস্তাঘাট,অবকাঠোমোর যাচ্ছেতায় অবস্থা।আমার সময়ে ১০কোটি টাকা ব্যয়ে পৌরবাসীর জন্য সুপ্রেয় পানির প্লান্টের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। সেটির কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও পৌরকতৃপক্ষের অদক্ষতার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণে সুপ্রেয় পানির প্লান্টটি চালু হচ্ছে না। ফলে চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসী বঞ্চিত হচ্ছে সুপ্রেয় পানির সুবিধা থেকে। বর্তমান মেয়র সাহেব মাথায় গামছা বেঁধে কাঁদায় হাত দিয়ে ড্রেন পরিস্কারের অভিনয়, বাইসাইকেলে চড়ে বিরাগভাজন ঠিকাদারের কাজ তদন্ত করে তা বন্ধ করে নিজেকে পৌরবাসীর সেবক হওয়ার অভিনয় করছেন। কিন্ত তা যে সারশূণ্য মাকালফল সেটি এখন পৌরবাসী সাধারণ নাগরিকরা বুঝতে না পারলেও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা না পেয়ে শুভংকরের ফাকিটি বুঝতে পারছেন। কিছুদিন পর সাধারণ নাগরিকরাও এ ফাঁকির বিষয়গুলো স্পষ্ট হবেন। আমি পৌরসভা থেকে চলে আসার পরপরই কিছু কর্মচারী চাকুরী স্বেচ্ছায় চাকুরী ছেড়ে চলে আসে। কিছু কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছিল, সময় অসময়ে ট্যাক্র আদায়ের নামে পৌর নাগরিকদের হয়রানি. মালামাল ক্রকের মত ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। এ গুলো কি? পৌর সেবকের উদাহরণ। গনমাধ্যম কর্মিরা আপনাদের নিকট অনুরোধ আপনাদের কলমের লেখনীর মাধ্যমে সঠিক কথাগুলো তুলে ধরে পৌরবাসীকে জানতে সহযোগিতা করবেন। যাতে তারা তাদের প্রকৃত সেবক বা পৌরসভার উন্নয়নের নিয়ামক কে তা সহজে বুঝে নিতে পারেন। আমার সময়ে বহির বিশ্বের নগর ব্যবস্থাপনা কেমন , সে দেশের নাগরিক সেবা কিভাবে প্রদান করা হয় সে সব বিষয়ে অভিজ্ঞতা আর্জনে পৌর কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের উন্নত নগরায়নের দেশ সফর করিয়েছি। যেন উন্নত দেশের আদলে আমার চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নাগরিকদের সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে।”
এ ভাবে একের পর এক পৌরবাসীর মঙ্গলের যে রুপরেখা তিনি প্রনয়ণ করেছিলেন তার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে বা হয়নি সে কথাগুলো তুলে ধরে আসন্ন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনের প্রাথী রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন বলেন নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে পৌরবাসী বিবেচনা করবেন। আর পৌরবাসী যদি সে সুযোগ আবার আমাকে দেন তাহলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকাকে স্বপ্নের নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। সাংবাদিকদের সহযোগিতা নিয়েই সেই স্বপ্নের নুতুন নুতন দিকের সফল বাস্তবায়ন করে গড়ে তুলবো চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসীর ক্ষুদা-দরিদ্রমুক্ত সুশাসনের আবাসভুমি।

উল্লেখ্য পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আরম্ভ হওয়া মত বিনিময় সভায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের প্রয়াস সকল সাংবাদিকের রুহের মাগফেরাত কামনা করে পালন করা হয় ১ মিনিটের নীরবতা। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের আগে সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়। উন্মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিকদের সকল প্রশ্নের গঠন মুলক ও সাবলিল উত্তর প্রদান করেন মেয়র প্রাথী রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন।
মত বিনিময়সভাটি উপস্থাপনা করেন চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইসলাম রকিব।