চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাসহ বেশ কয়েকটি অফিস করোনার হটস্পট : নমুনা পরীক্ষায় অনীহা

স্টাফ রিপোর্টার: সারাদেশের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা তথা খুলনা বিভাগের করোনা পরিস্থিতি এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন যেমন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা তেমনই উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে মৃত্যু। ইদানিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নিজেকে অসুস্থ বলে চেয়ে নিচ্ছেন মাফ কেউবা করছেন দোয়ার দরখাস্ত। কিন্তু রোগটা যে কি সেটা জানাচ্ছেন না এদের কেউই। জ্বর সর্দি-কাশিসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে বেমালুম ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকেই। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। চুয়াডাঙ্গার অনেক গুরুত্বপূর্ণ অফিসের আট-দশজন কর্মকর্তা কর্মচারী করোনা উপসর্গ নিয়ে নিয়মিত অফিস করছেন। সামাজিকতার ভয়েই হোক আর অনিচ্ছাকৃতই হোক, এদের কারোরই করোনার নমুনা পরীক্ষা করতে দেয়ার কোনো তাগিদ নেই। যে দুই একজন নমুনা দিয়েছেন, ফলাফল আসার পর পজেটিভ হয়ে বাধ্য হয়ে গেছেন আইসোলেশনে।
এ রকম বেশ কয়েকটি উদাহরণও রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় এই মুহূর্তে অন্তত: দশজন কর্মকর্তা কর্মচারী করোনা উপসর্গ নিয়ে নিয়মিত অফিস করছেন। এদের কেউ কেউ স্বপরিবারে ভুগছেন সর্দি জ্বরে। তিনজন নমুনা দেয়ার পর রেজাল্ট আসা পর্যন্ত নিয়মিত অফিস করেছেন। রিপোর্ট পজেটিভ হলে গেছেন আইসোলেশনে। এতে করে পৌরসভায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকহারে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে। একই অবস্থা চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির। সমিতির সভাপতি এ্যাড আলমগীর হোসেন করোনা পজেটিভ হয়ে বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু বেশ কয়েকজন আইনজীবী ও তার সহকারীদের দেখা গেছে করোনা উপসর্গ নিয়ে আদালত এলাকায় ঘুরতে।

করোনাকে ভয় নয়, প্রতিরোধ করতে হবে। কেউ করোনা আক্রান্ত হলে সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা নিলে সুস্থ হচ্ছেন অধিকাংশই। একথা বলছেন ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজের বিশেষায়িত করোনা ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক ডা. আলমগীর হোসেন জনি। তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটা এভাবেই ঘটেছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা না করে ঘুরে বেড়ানো খুবই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।