স্টাফ রিপোর্টার: প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী কামরুজ্জামান চাঁদ। গতকাল সোমবার শুনানি শেষে এ ঘোষণা দেন পৌর নির্বাচনের আপীল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। এর আগে ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে কামরুজ্জামান চাদের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়। এদিকে, গতকাল কামরুজ্জামান চাদের প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আনন্দের জোয়ার বইতে থাকে ৯নং ওয়ার্ডবাসীর মধ্যে। মহল্লার বিভিন্ন মসজিদে দোয়ার আয়োজন করেন তার বন্ধুবান্ধব-শুভাকাঙ্খীরা।
জানা গেছে, গত ৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ব্যাংকের ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে কামরুজ্জামান চাঁদের প্রার্থীতা বাতিল করেন জেলা নির্বাচন অফিসার। পরদিন পৌর নির্বাচনের আপীল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক বরাবর আপীল করেন তিনি। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আপীলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কামরুজ্জামান চাদের ক্রেডিট কার্ডের এনওসি জমা দিয়ে শুনানিতে সিটি ব্যাংকের এরিয়া ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান লিখিতভাবে বলেন, কামরুজ্জামান চাদ সিটি ব্যাংকের কোন শাখা থেকেই কখনো ঋণ গ্রহণ করেননি। তবে এক শাখা থেকে তিনি ক্রেডিট কার্ড নিয়েছিলেন। যা পরবর্তিতে তিনি আর ব্যবহার করেননি। ওই ক্রেডিট কার্ডের বাৎসরিক ফিস (সার্ভিস চার্জ) বকেয়া থেকে যায়। পরবর্তিতে তিনি জানা মাত্র সার্ভিস চার্জের ৫ হাজার ৬শ’ টাকা পরিশোধ করেন।
কামরুজ্জামান চাদ বলেন, সিটি ব্যাংকে ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে গত ৩ ডিসেম্বর আমার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়। অথচ সিটি ব্যাংকই না, কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমার কোন ঋণ নেই। তবে সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। কার্ডের বার্ষিক সার্ভিস চার্জ বাবদ ৫ হাজার ৬শ’ টাকা বকেয়া ছিলো। যা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাকে অবহিত করেনি। পরে বিষয়টি জানা মাত্রই ওই টাকা পরিশোধ করে দিই।
আপীলের প্রেক্ষিতে সোমবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে প্রার্থী কামরুজ্জামান চাদ ঋণ খেলাপি নন হিসেবে প্রমাণিত হয়। ফলে তার আপীল আবেদন যৌক্তিক বলে দাবি করে প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করেন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনের আপীল কতৃপক্ষ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচন অফিসার তারেক আহমেমদসহ পৌরসভা নির্বাচনের আপীল কতৃপক্ষের সদস্যবৃন্দ।