স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ পরিচয়ে মোবাইল ছিনতায়ের ঘটনায় জড়িত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের অভিযানে শনিবার রাতে পাশ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার  মহেশপুরে অভিযান চালিয়ে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি মোটরসাইকেল,  একটি খেলনা পিস্তল ও ৫টি মোবাইল।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ঝিনাইদহ জেলার  মহেশপুর থানার পুরন্দরপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে ইসমাইল খান আরিফ(৩০) ও তার এক সহযোগী একই এলাকার উত্তম কুমার।
গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যর পর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার উকতো গ্রামে সড়কের পাশে কয়েকজন যুবক মোবাইলে ফ্রি ফায়ার গেম ও লুডু খেলছিলো।
এ সময় পুলিশ পরিচয়ে ৩/৪ জনের একটি দল এসে তাদেরকে হালকা মারধর করে মোবাইলফোন গুলো কেড়ে নেই। মোবাইল নিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে বলে স্থানীয় মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করে ফোনগুলো নিয়ে আসতে। ঘটনার দিন রাতেই ওই এলাকার টহল পুলিশের মাধ্যমে তারা জানতে পারে মোবাইল নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা পুলিশ না, তার কৌশলে মোবাইলগুলো ছিনাতাই করে নিয়েছে।
এদিকে, গত ২৬ জুলাই চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ভুলটিয়া ও কিরনগাছি এলাকায় ভুয়া অভিযান চালিয়ে আরও তিনটি মোবাইলফোন কেড়ে নেই এই প্রতারক চক্রটি।
এ ধরনের কয়েকটি ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে নড়ে চড়ে বসে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ। যে কোনো মূল্যে এই চক্রটিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। ওই নির্দেশের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলমের  নেতৃত্বে চক্রটিকে ধরতে মাঠে নামে সদর থানার পুলিশ।
অভিযানে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ খানের সার্বিক তত্তাবধানে, পুলিশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নির্নয় করার পর (ওসি) অপারেশন ইকরামুল হোসাইন, উপ পরিদর্শক(এসআই) হাসানুজ্জামান ও সামিম হাসানসহ সদর থানার একটি চৌকস টিম পৃথক অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতেই চক্রের নেতৃত্ব প্রদানকারী প্রধান আসামী ইসমাইল খান আরিফ ও তার এক সহযোগী উত্তম কুমারকে গ্রেফতার করেন।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া ৬টি মোবাইলের মধ্যে ৫টি মোবাইল ফোন এবং এ এলাকার বিভিন্ন স্থান হতে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনের একাধিক কভার ও একটি খেলনা পিস্তলসহ ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয় গ্রেপ্তারকৃতদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।