স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নভেম্বর মাসের এ মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরতে গত সভার কার্যবিরণী পাঠ করেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরিন। চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আসন্ন পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে যে কোনো মূল্যে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখা হবে। প্রয়োজনে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। কিশোর গ্যাং এর যে বিষয়টি অনেকেই বলেছেন, আমি তাঁদের উদ্দেশ্যে বলছি- কিশোর গ্যাং বলে কিছু থাকবে না। এ রকম তথ্য পেলে সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বাল্যবিবাহের প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার তার বক্তব্যে বলেন, করোনার মধ্যে বেশ কয়েকটা বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। কাজীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কোনো কাজী নিজ এলাকার বাইরে গিয়ে বিয়ে পড়াতে পারবে না। যদি এমন খবর পাওয়া যায়, তহালে ওই কাজীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিয়ের দুই বছর পরেও বাল্যবিয়ের সাজা দেয়া যায়। যদি এমন প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে কিন্তু শাস্তি দেয়া হবে। কোনোভাবেই বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে না।
আলোচনা সভায় চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, মাদক এবং বাল্যবিবাহ, এই দুটির ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বদা সতর্ক। যেভাবেই হোক বাল্য বিবাহ ও মাদক শুন্যের কোটায় আনতে হবে। নির্বাচনগুলো সুষ্ঠ পরিবেশে হচ্ছে। যেগুলো বাকি আছে সেগুলোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখা হবে। কেউ যদি উটকো ঝামেলা করতে চাই, তা কিন্তু মেনে নেয়া হবে। গোয়েন্দা এবং পুলিশ বেশ সতর্ক। সুতরাং কেউ ঝামেলা করে ছাড় পেয়ে যাবে, তা হবেনা। আমরা চিন্তা করি ভালোর জন্য। তাই খারাপ কিছু মেনে নেওয়া হবে না।
সভায় বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক, আলমডাঙ্গার পৌর মেয়র হাসান কাদির গণু, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা লিটন আলী, জীবননগর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা দিলারা রহমান, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজ, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাড. বেলাল হোসেন, সাংবাদিক শাহ আলম সনি, আরিফুল ইসলাম ডালিমসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ।