চুয়াডাঙ্গা এলজিইডিতে ৪৬০ নারীর কর্মসংস্থান
প্রকল্প শেষে জনপ্রতি পাবেন লাখ টাকা
স্টাফ রিপোর্টার:নারী ও পুরুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চুয়াডাঙ্গা এলজিইডি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৬০ অসহায় নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
চুয়াডাঙ্গা এলজিইডি অফিস জানায় তাদের ২টি প্রকল্পে গ্রামীণ সড়কে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মাধ্যমে গ্রামের প্রান্তিক জনপদের অসহায়, দুস্থ, স্বামী পরিত্যক্তাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৪৬০ হতদরিদ্র নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। যা মহামারী করোনার মধ্যেও নারী নেতৃত্বে সমতার বিশ্ব গড়তে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১ চুয়াডাঙ্গা এক বারতা নিয়ে এসেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ কর্মসূচী অধীন ৮০ জন দুস্থ নারী এবং পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচী-৩ প্রকল্পের অধীন ৩৬০ জন অসহায় নারী কর্মীদের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই ২টি প্রকল্পে ৩ বছর মেয়াদ পর মেয়াদ শেষে জেলার ৪টি উপজেলায় প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার পাকা গ্রামীণ সড়কপাশ ও ব্রিজ কালভার্টের ক্ষতিগ্রস্ত মাটির কাজের সংস্কার হবে বলে মনে করেন এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ আরও মনে করেন তাৎক্ষণিকভাবে এসব অবকাঠামোর মেরামতের কারণে একদিকে যেমন সরকারের বিশাল অঙ্কের সাশ্রয় হচ্ছে, অপরদিকে প্রান্তিক জনপদের অবহেলিত ও হতদরিদ্র বৃহৎ এক অসহায় নারীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে বন্যা অঞ্চলের সড়ক নেটওয়ার্কে নিরবচ্ছিন্নভাবে যাতায়াতের সুযোগ অব্যাহত থাকছে। পল্লী সড়ক মেরামত ও কর্মসূচীর আওতায় কর্মরত নারীরা দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি হিসেবে মাসিক মোট ৯ হাজার টাকার মধ্যে ৬ হাজার টাকা নগদ হাতে পাচ্ছে এবং অবশিষ্ট ৩ হাজার টাকা যৌথ ব্যাংক হিসেবে মাসিক সঞ্চয় হিসেবে জমা হচ্ছে। অপরদিকে পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচী-৩ এর আওতায় কর্মরত নারীরা দৈনিক ২৫০ টাকা মজুরি হিসেবে মাসিক মোট ৭ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে ৫ হাজার ১০০ টাকা নগদে হাতে পাচ্ছে এবং অবশিষ্ট ২ হাজার ৪০০ টাকা যৌথ ব্যাংক হিসাবে মাসিক সঞ্চয় জমা হচ্ছে। এভাবে নারীদের সঞ্চয়ের টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা অবহেলিত, অসহায় ও দুস্থ নারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। প্রকল্প কাজ শেষে তারা যাতে এক সঙ্গে বেশি টাকা হাতে পেয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে সে জন্য আয়বর্ধকমূলক প্রশিক্ষণ এ দুটি প্রকল্পের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে। এসব নারীদের মধ্যে দামড়হুদা উপজেলাধীন কুড়োলগাছি গ্রামের মোছাঃ রাজিয়া খাতুন, স্বামীঃ আব্দুল হামিদ বলেন, আমরা এলজিইডির প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান পেয়েছি এবং আমাদের জমানো প্রায় লাখ টাকা একসঙ্গে উঠিয়ে আমরা প্রতিটা পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারব। এছাড়া প্রতি মাসের টাকা নগদে হাতে পেয়ে ছেলে-মেয়ে নিয়ে মোটামুটি ভালভাবে সংসার চলছে। স্বামী পরিত্যক্তা অনেক নারীর সন্তানদের পড়ালেখাও চলছে। এলজিইডির চুয়াডাঙ্গা  নির্বাহী প্রকৌশলী অতিমাভ সানা জানান এলজিইডি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। হতদরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী এবং সমাজে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের সকল সংস্থা ২০১৫-২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ঠ (এসডিজি)’ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা হিসেবে এসজিডি’র লক্ষ্য অর্জনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ  এসডিজি’র মোট ১৭টি অভীষ্ঠের মধ্যে দারিদ্র বিমোচনসহ ১০টি অভীষ্ঠের সঙ্গে এলজিইডি সরাসরি কাজ করছে।