আহসান আলম: ‘খাদ্য নিরাপত্তা: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ৩দিন ব্যাপি ৪১ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে বিজ্ঞান মেলা এবং জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরের তত্ত্বাবধানে এং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের পৃষ্টপোষকতায় গতকাল সোমবার সকাল ১০ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ডিসি সাহিত্য মঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার শুরুতে ফিতে কেটে মেলার উদ্বোধন, আমন্ত্রিত অতিথিদের আসনগ্রহণ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়া ও গীতাপাঠ করা হয়। জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের দেশে চাষের জমি কমতে কমতে এমন এক পর্যায়ে চলে এসছে যে বর্তমানে আবাদ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানের আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন পদ্ধতিতে আবাদ করে ফসল ফলাচ্ছেন চাষিরা। তাতে ফলনও বেশি হচ্ছে এবং দামও পাচ্ছে ভালো। আমাদের দেশের কৃষি বিজ্ঞানিরা আনেককিছু আবিষ্কার করেছেন। তাদের মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমানে খাদ্য বেশি পাচ্ছি আমরা। আমরা কৃষি বিজ্ঞানিদের কথা চিন্তা করতে পারি এবং তাদের দেখিয়ে যাওয়া পথ অনুসরন করতে পারি। তবেই কৃষিক্ষাকে সফলতা আসা সম্ভব। বিজ্ঞানের প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, আমার এখন খাদ্যে আগের চেয়ে স্বয়ংসম্পুর্ন। যখন আমাদের দেশে ৭ কোটি মানুষের বসবাস ছিলো তখন আমাদের দেশে প্রচুর পরিমানে আবাদি জমি ছিলো। বর্তমানে আমাদের দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুনেরও বেশি। সেই তুলনায় আবাদি জমরি পরিমান অনেক কম। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা অনেক বেশি ফসল ফলাচ্ছি।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মনিরা পারভীন, পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সহকারি অধ্যক্ষ রেজাইল করিম, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইয়াহ্ ইয়া খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাহিদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, সাবেক অধ্যক্ষ এসএম ইস্রাফিল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান, এনডিসি আমজাদ হোসেন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু হোসেন, সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ইসরাত জাহানসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ। আলোচনা সভায় সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার সুরাইয়া মমতাজ।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথিসহ সকলে মেলায় প্রদর্শিত স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং এর মূল্যায়ন করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে সিনিয়র ও জুনিয়র গ্রুপে মোট ২৮ টি স্টল প্রদর্শিত হয়। এরমধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পয্যায়ে ১১ টি ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৬ টি স্টল এবং বিশেষ গ্রুপে প্রথম আলো বন্ধুসভা। অপরদিকে,দুপুর ১২ টায় জুনিয়র ও সিনিয়র গ্রুপের মধ্যে উপস্থিত বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মনিরা পারভীন, চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা অফিসার, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, প্রফেসর এস এম ইস্রাফিল।