স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গায় চলমান কঠোর লকডাউনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে মানুষের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো থাকলেও প্রশাসন ছিল কঠোর অবস্থানে। অপ্রয়োজনেই অনেককে বাড়ির বাইরে বের হতে দেখা গেছে। গতকাল শনিবার সরকারি ছুটির দিন থাকলেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, সদর উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশের ভুমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাঁচা বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান সকাল ৬ টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত খোলা ছিল। প্রয়োজন ছাড়া যাদেরকে ঘরের বাইরে বের হতে দেখা গেছে তাদেরকে ভ্রাম্যামাণ আদালতে জরিমানা গুনতে হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সদর থানার পুলিশ, পৌরসভা, জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার অব্যাহত ছিল। এর ভিতরই অনেককে দেখা গেছে বাইরে হতে। অযথা বাইরে বের হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে সরকারি বিধি নিষেধ না মেনে দোকান খোলা রাখার অপরাধে ৫ জনকে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সুত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হোসেনের নেতৃত্বে গতকাল, শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার শহীদ হাসান চত্বরসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে বাইরে বের হওয়া ও লকডাউন উপেক্ষা করে দোকান খোলা রাখার অপরাধে মোট টি ১২টি মামলা করেন তিনি। এরমধ্যে ৭ জনের কাছ থেকে মোট ৮ হাজার ৭শ’ টাকা জরিমানা আদায় করেন এবং দোকান খোলা রাখার অপরাধে ৫ জন দোকাদারকে প্রত্যেককে ৭ দিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
এদিকে, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সবুজ কুমার বসাক’র নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১০ জনের কাছ থেকে ৪ হাজার ৭শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই সাথে অপর অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাদাত হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ জনকে ৩ হাজার ৯শ’ টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে গতকাল চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়। এ সময় অযথা বাইরে ঘোরাঘুরি করার অপরাধে ২ জনের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।