স্টাফ রিপোর্টার : চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে করোনাকালীন সহায়তা হিসেবে ৩০০ পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা এবং ৯ হাজার জনকে এক বেলার রান্না করা খাবার কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে ৩০০ জনের মধ্যে টাকা ও খাবার দেওয়া হয়।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ শামসুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন।

রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শাহানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ) জাহাঙ্গীর আলম ও সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সোহরাব হোসেন । অনুষ্ঠানে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাড. রফিকুল ইসলাম, অ্যাড. এমএম শাহজাহান মুকুল. অ্যাড. শফিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান কবীর, হাবিবুল্লাহ জোয়ার্দ্দার , জিল্লুর রহমান ও বিলকিস জাহান, ইউনিট অফিসার ওবায়দুল ইসলাম পারভেজ, সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান মিলন , এনডিআরটি মেম্বার সাদ্দাম হোসেন ও ভাতাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে পোষ্ট অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ ও যুবরেডক্রিসেন্টের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।


সোসাইটির কর্মকর্তারা জানান, আগামী একমাস ধরে প্রতিদিন ৩০০ জন হিসেবে জেলার করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ৯ হাজার জনকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে রান্না করা খাবার দেওয়া হবে। বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও অস্ট্রেলিয়া রেডক্রস কর্মসূচিতে আর্থিক সহযোগিতায় করেছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, রেডক্রিসেন্ট আর্ত মানবতার পাশে দাঁড়ায়। ১৯১৭ সালে ও ১৯৪৪ সালে দু’বার নোবেল পুরস্কার লাভ করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রেখেছে। সহযোগীতার কথা মনে হলেই প্রথমেই মনে হয় রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি। করোনাকালে অনেক কাজ করেছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পানি সাল্পাই করেছে। আর্ত মানবতার সেবাই সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে রেডক্রিসেন্ট। অসহায় ৩০০ পরিবারকে নগদ ২৫০০ টাকা এবং প্রতিদিন ৩০০ মানুষকে একবেলা খাবার দেয়া সহজ কিছু নয়। চুয়াডাঙ্গাবাসীর দূর্যোগ মোকাবেলায় রেডক্রিসেন্টকে পাশে পাবেন। সরকার জনগণের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করে যাচ্ছেন। ২০২১-২০৪১ প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় সবাই মিলে কাজ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্ত:মুখি পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন। কেউ পিছিয়ে থাকবে না। ধাপে ধাপে করছি। সবার ঘর বানিয়ে দিচ্ছি। থাকার জায়গা না থাকলে উন্নত জীবনের আশা কীভাবে করবেন। প্রত্যেকটি প্রতিবন্ধির জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৫০টি উপজেলায় সকল বয়স্ক ও বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরমধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা রয়েছে। করোনা না হলে দেশ আরো এগিয়ে যেত। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যসেবাই সরকার খরচ করছে। করোনার টিকা বিনামূল্যে জনগণকে দেয়া হচ্ছে। সুবিধা পাচ্ছেন। আরো সুবিধা পাবেন। সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আরো খরচ কমে যেত। শুধু সরকারের দোষ ধরলে হবে না। নিজের দোষ আছে কিনা দেখেন। আপনারা ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাবেন এবং বাল্যবিয়ে দেবেন না। ১৮ বছরের পর মেয়েদের বিয়ে দেবেন। সরকার যেটা নিষেধ করবে, সেটা করবেন না। আপনারা সরকারি বিধিনিষেধগুলো পালন করেন।