চুয়াডাঙ্গায় রাতের রেল স্টেশনের বেহাল দশা:বিদ্যুৎ চলে গেলে ভূঁতুড়ে অবস্থা
বিদ্যুৎ বিহীন অন্ধকারে স্টেশন মাস্টারকে কাজ করতে হয় মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে

স্টাফ রিপোর্টার : চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহি রেল স্টেশন। আশপাশের জেলার মানুষের রেলপথে যাওয়া আসার একমাত্র ভরসাস্থল এই রেল স্টেশনটি। লকডাউনে রেল চলাচল বন্ধ থাকলেও রাতে এবং দিনে যাতায়াত করছে মালবাহী ট্রেনগুলো। কিন্তু রাতে এবং দিনে মানুষজনের আনাগোনা সবসময় লক্ষা করা যায়। এখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে যেমন আছে রেলওয়ে জিআরপি ও নিরাপত্তা বাহিনী, তেমনই স্টেশনের পরিবেশটাও আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। উন্নত করা হয়েছে প্লাটফর্ম, যাত্রী ছাউনি বাড়ানো হয়েছে। সেই সাথে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে। কিন্তু উন্নত হয়নি বিদ্যূতের ব্যবস্থা। দিনের আলোয় ঝলমলে থাকলেও রাতের অবস্থা ভিন্ন। নেই নিজস্ব কোন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিরাজ করে ভূঁতুড়ে অবস্থা। রাতের অন্ধকারে কোন যাত্রীর নেই নিরাপত্তা। স্টেশন মাস্টারসহ অন্যান্য কর্মচারিদের কাজ করতে হয় মোবাইলের আলো জালিয়ে অথবা অন্য কোন উপায়ে। রেল স্টেলন কর্তৃপক্ষ বলছে, বরাবার তাগিদ দিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
গতকাল বুধবার বৃষ্টি ভেঁজা সন্ধায় আমরা দু’জন আশ্রয় নিয়েছিলাম চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশনে। বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে রাতের অন্ধকারকে স্টেশনের পরিবেশটা হয়ে উঠেছিল ভূতুড়ে। আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর আলোয় ভূতুরে স্টেশনটা আলোয় ভড়ে গেলেও বিদ্যুৎ চমকানো থেমে যাওয়া মাত্রই চারিদিকে অন্ধকার। সময় কাটাতে সারা স্টেশন ঘুরে কোন রকম একটু বাদাম পাওয়া গেলেও অন্ধকারে বাদামের প্যাকেটটা হাতিয়ে খুঁজতে হয়েছে বারবারই। বৃষ্টিতে আশ্রয় নেয়া স্টেশনের অন্যান্য মানুষের অবস্থা ছিল একই রকম। অন্ধকারে স্টেশনে আগত এক ব্যাক্তির কপালটা ফুলে আলু হয়ে গেল। অন্ধকারে হাটতে যেয়ে স্টেশনের লোহার পিলারটার সাথে ধাক্কা লেগে তার মশ্রিন কপালটার ওই অবস্থা হলো। কপালে হাত দিয়ে নীরবে চলে যাওয়া ছাড়া কিছুই করার ছিলনা তার। কাকে বলবে তার সেই অভিযোগ। কিছুক্ষণর পর স্টেশন কাঁপিয়ে সন্ধার নীরবতাকে ভেঙে মারমার শব্দে একটা মালবাহী ট্রেন দাপিয়ে চলে গেল। দু’জনে মিলে কোন রকম মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে গেলাম। সেখানে যেয়ে দেখি স্টেশন মাস্টার মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে ট্রেন যাওয়ার সময়টা লিখছে। অন্ধাকারে প্রথমে তিনি আমাদের চিনতে না পরলেও নিজের মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে মুখে ধরতেই একগাল হেসে মাস্টার সাহেব আমাদের সেখানে বসার ব্যাবস্থা করলেন।
এ সময় চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশন মাস্টার একেএম ইউসুফ পলাশের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত দু’মাস ধরে এমন অবস্থা। রাজবাড়িতে ইলেকট্রিশিয়ানদের কাছে বারবার বলেছি তাতে কোন কাজ হয়নি। উপায় না পেয়ে তাদেরকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। গত দু’মাস হলো এখনও এর কোন প্রতিকার হয়নি। রাজবাড়ি থেকে বলা হচ্ছে লকডাউনের ভিতর যাওয়া সম্ভব না। তিনি বলেন, এভাবে কি কাজ করা সম্ভব।