চুয়াডাঙ্গায় ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং দুইকর্মচারীকে বদলীসহ পাঁচদফা দাবীতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইনজীবী সমিতির স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার : চুয়াডাঙ্গায় ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১) মোহা.বজলুর রহমান এবং কর্মচারী (নাজির) মাসুদুজ্জামান মাসুদ ও সেরেস্তা সহকারী জহুরুল ইসলামকে জেলার বাইরে বদলীসহ পাঁচদফা দাবীতে আইনজীবী সমিতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
সভাপতি অ্যাড.মো. আলমগীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তালিম হোসেনের নেতৃত্বে জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ করেন। জেলা প্রশাসক মো.নজরুল ইসলাম সরকার স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
দাবীসমুহ হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা জজশীপের‘দুর্নীতিবাজ’ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১) মোহা.বজলুর রহমান এবং কর্মচারী মাসুদুজ্জামান মাসুদ ও জহুরুল ইসলামকে অনতিবিলম্বে আন্ত:জেলা বদলী। মাসুদুজ্জামান মাসুদ ও জহুরুল ইসলাম কাদের ইন্ধনে ও সহায়তায় অন্যান্য কর্মচারীরা আইনজীবীদের উপর হামলা করেছে,সেই বিষয়টি একজন বিচারপতি দ্বারা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ তদন্ত, আইনজীবীদের জন্য অতিসত্তর সুরক্ষা আইনপ্রণয়ন,আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বার সমিতির অনুমতি নেওয়া এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষে দীর্ঘদিনের অবহেলিত চুয়াডাঙ্গা জেলা জজশীপ ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমুহে অতিসত্তরসৎ, বিচক্ষণ , নিষ্ঠাবান, ন্যায়-পরায়ন বিচারকগণকে নিয়োগদান।’
স্মারকলিপি প্রদানকালে জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বেলাল হোসেন, সরকারী কৌশলী (জিপি) আশরাফুল ইসলাম খোকন, বারের সহসভাপতি আব্দুল খালেক ও কাইজার হোসেন জোয়ার্দ্দার, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমএম শাহজাহান মুকুল, সাবেক সেক্রেটারী আসম আব্দুর রউফ ও শামীম রেজা ডালিম, সিনিয়র আইনজীবী মজিবুল হক চৌধুরী মিন্টু, রেজাউল হক, আফতাব উদ্দিন, আতিয়ার রহমান, ইজাজুল ইসলাম, মোসলেম উদ্দিন (২), মাসুদুর রহমান রানা, মোকলেছুর রহমান, রুবিনা পারভীন ও আবু তালেবসহ অন্যান্য আইনজীবীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ বিকাশের স্বার্থে আপনি অবিরামভাবে কাজ করে চলেছেন এবং দেশের মানুষের কল্যাণে সময় উপযোগী আইন প্রণয়ন করে বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করেছেন। আপনি মনে করেন ঘুষ দুর্নীতিমুক্ত শক্তিশালী বিচার বিভাগ দেশের ন্যায় বিচারের একমাত্র আশ্রয়স্থল ও উন্নয়নের হাতিয়ার । সঙ্গত কারণে আপনি ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছেন। আপনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে আপনার দেওয়া ঘোষনাকে বাস্তবায়ন করছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতি আপনার জিরো টলারেন্স ঘোষনার সাথে একমত পোষন করে জেলার বিচার অঙ্গনকে মুজিববর্ষের অঙ্গিকার হিসেবে ঘুষ দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষে নব-নির্বাচিত কমিটির সদস্যগণ জেলা জজশীপের দুর্নীতিবাজ অফিস স্টাফদের ঘুষ দুর্নীতি বন্ধ ও বদলীর বিষয়ে আলোচনার জন্য ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১) মোহা: বজলুর রহমানের নিকট গেলে দুর্নীতিবাজ অফিস স্টাফ নাজির মো. মাসুদুজ্জামান ও সেরেস্তা সহকারী জহুরুল ইসলামসহ তাঁর অনুসারীরা এবং অন্যান্য অফিস স্টাফগণ ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহা: বজলুর রহমানের ইন্ধনে অস্ত্র-শস্ত্র, হকিষ্টিক, স্ট্যাম্প ও লাঠিসোটা হাতে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের উপর নগ্ন হামলা করে গুরুতর আহত করেন। আইনজীবীদের উপর হামলার প্রতিবাদে একটি জরুরি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আইনজীবীদের উপর হামলার মাধ্যমে গোটা আইনজীবী সমাজকে হেয় করে বিচার অঙ্গনকে কলুষিত করেছেন। জরুরি সাধারণ সভার সকল আইনজীবীদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহা: বজুলর রহমান, অফিস স্টাফ মো. মাসুদুজ্জামান মাসুদ এবং জহুরুল ইসলামকে আন্ত:জেলা বদলীর দাবিতে ১৮ মার্চ হতে অনির্দিষ্টকালের জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতি জেলার সমস্ত আদালতের কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করা থেকে বিরত থেকে কলম বিরতী ঘোষনা করেন যা অদ্যবধি চলমান আছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার আইনজীবীণ সদস্যগণ এখন আর সুরক্ষিত নয়। আইনজীবী সমিতির সদস্যগণ ভবিষ্যতে ঘুষ দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে হয়তো বিচারঙ্গনেই খুন হতে পারেন। এমতাবস্থায় আইনজীবীদের উপর হামলার প্রতিবাদে, আইনজীবীদের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে ও বিচারঙ্গনে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতি দেশের সকল আইনজীবীর পক্ষে পাঁচদফা দাবি জানাচ্ছি।