চুয়াডাঙ্গায় বন্ধুদের সাথে মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে যেয়ে বিপত্তি

ফায়ার সার্ভিসের টানা চার ঘন্টার প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মাইনুর রহমান মুন্নার লাশ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গায় বন্ধুদের সাথে মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মাইনুল রহমান মুন্নার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধায় খুলনা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মাথাভাঙ্গা নদী থেকে মুন্নার মৃতদেহ উদ্ধার করেন। মাইনুর রহমান মুন্না (২৭) চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাটকালুগঞ্জ এলাকার পোস্ট মাষ্টার আব্দুল মোমিনের ছেলে ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। গতকাল শনিবার দুপুরে বন্ধুদের সাথে গল্পের ছলে মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মারা যান তিনি।
মুন্নার বন্ধু সবুজ ও আব্দুল মোমিন বলেন, গতকাল শনিবার বেলা দেড়টার দিকে মুন্নাসহ আমরা তিনজন মাথাভাঙ্গা নদীর ধারে বসে গল্প করছিলাম। এ সময় মুন্না নদীতে নামে। আমাদের মধ্যে কেউই সাতার জানিনা। মুন্না নদীর কিনারে নামতেই নদীতে পানি বেশি থাকায় পানিতে ডুবে যায়। আশে পাশের লোকজনের প্রচেষ্টায় মুন্নাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। খবর দেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসকে।
মুন্নার বাবা বলেন, গতকাল দুপুরে মুন্না তার বন্ধু সবুজ ও মোমিনের সাথে দেখা করতে যায়। দুপুরে খবর আসে মুন্না পানিতে ডুবে গেছে এবং তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের খবর দেয়া হয়। এলাকাবাসির সহযোগীতায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে খবর দেয়া হয় খুলনা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে। সন্ধায় খুলনা থেকে ৩ সদস্যের ডুবুরি দল চুয়াডাঙ্গায় এসে পৌছালে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। সন্ধা সাড়ে ৬ টার দিকে সিঅ্যান্ডবি পাড়ার ঈদগাহ পাড়া ঘাট থেকে মান্নার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহ উদ্ধার করেন খুলনা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি নবীর উদ্দিন মুন্নার মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারি পরিচালক রফিকুজ্জামান বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। এলাকাবাসির সহযোগীতায় উদ্ধার অভিযান চালালে মুন্নার লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়না। পরে খুলনার ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা আসে এবং সন্ধা সাড়ে ৬ টার দিকে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে মুন্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান জানান, সাতার না জানার কারনে মুন্না নামের এক যুবক পানিতে ডুবে মারা যায়। লাশ উদ্ধারের পর হাসপাতালে পাঠানো হয়। মুন্নার পরিবারের লোকজনের কোন অভিযোগ না থাকায় রাতে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *