মুখের ছবি বিকৃতি করে ছবি পোষ্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ:চুয়াডাঙ্গা বিট পুলিশের অফিসের সামনে হামলা

চুয়াডাঙ্গায় বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের নেতা মিন্টুকে কুপিয়ে জখম ঢাকায় রেফার্ডঃপুলিশী অভিযানে প্রধান আসামী মামুন ও আসিফ আটক

স্টাফ রিপোর্টার:বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মিন্টুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ী কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা শহরের ইসলামপাড়ায় অস্থায়ী বিট পুলিশীংয়ের কার্যালয়ের ভিতরে তাকে কুপিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার ০৮ সেপ্টেম্বর রাতে এ ঘটনা ঘটে। আহত সিরাজুল ইসলাম মিন্টু (৩৫) জেলা শহরের ইসলামপাড়ার শেরেগুল ইসলামের ছেলে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গতরাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
আহত মিন্টুর ছোট ভাই রাজু অভিযোগ করে বলে, এলাকায় উশৃঙ্খল কিশোর গ্যাংয়ের কিছু ছেলে গতকাল বুধবার বিকেলে আমার ছবি তোলে। ওই ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে পোষ্ট করে একই এলাকার কাঠ ফার্নিচার ব্যবসায়ী শরিফের ছেলে শোভন। এ ঘটনায় বুধবার রাতে আমি চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করি। বাড়ী ফেরার পরপরই এলাকার কালুর ছেলে আকাশ, শরিফের ছেলে শোভন, রাজ্জাকের আসিফের সাথে এ নিয়ে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। আমার ভাই মিন্টু প্রতিবাদ করলে আকাশ, শোভন, আসিফসহ ৮/১০ জন মিলে তাকে তাড়িয়ে ইসলাম পাড়ায় অবস্থিত বিট পুলিশিংয়ের কার্যালয়ের ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে মিন্টু পড়ে গেলে তাকে ধারালো অস্ত্র চাপাতি ও রাম দা দিয়ে এলোপাথাড়ী কোপাতে থাকে। স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিই।
সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান ও সদর হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানুল হক তন্ময়ের সমন্ময়ে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
সদর হাসপাতালের সার্জারী কনসালটেন্ট ডা. এহসানুল হক তন্ময় বলেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার বাম হাতের কব্জির অনেক খানি কেটে গেছে, ডান পায়ে, ঘাড়ে, পিঠে গুরুতর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। মিন্টুর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছি।
এ ঘটনায় বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি হিমেল মল্লিক তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টন্তমুলক শাস্তির দাবী করেছেন। বুধবার রাতেই সিরাজুল ইসলাম মিন্টুকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে বলে তার পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় আহতের ভাই বাদী ক’একজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান ২ আসামীকে আটক করেছে। আটককৃত দু’জন হলেন- মামুন ও আসিফ। আজ বেলা ১১টার সময় সদর থানায় প্রেস কনফরেন্সের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্যঃ ইসলামপাড়ার এই সঙ্গবদ্ধ কিশোরগুলো ফেসবুকে দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে ফেসবুকে ছবি পোষ্ট করে। পরে ওই ছবি দেখে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ তাদেরকে ধুরে নিয়ে আসে। এই সঙ্গবদ্ধ কিশোরগুলো এলাকায় রাতদিন দাপিয়ে বেড়াই এদেরকে এখনই প্রতিহত না করা গেলে এরকম ঘটনাসহ আরও বড় ধরণের ঘটনা ঘটানোর আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
কিশোর অপরাধ আগেও ছিল, বর্তমানেও আছে। তবে দিন যত যাচ্ছে তাদের অপরাধগুলো ক্রমেই হিংস্র, নৃশংস ও বিভীষিকাপূর্ণরূপে দেখা দিচ্ছে। অপরাধ করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে এবং এখনো বেড়েই চলেছে। সংঘবদ্ধভাবে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে রক্তাক্ত যখমের মতো যারা ঘটনা ঘটাতে পারে তারা আরও কত কিছুই না করতে পারে। পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষার লক্ষ্যে এখনই এর লাগাম টেনে ধরা দরকার। না হলে ভবিষ্যতে এটি খুব ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সঙ্গবদ্ধ এই কিশোরগুলোকে আইনের আওতায় আনতে এলাকাবাসী পুলিশ সুপারসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।