ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছেলুন এমপি’র হস্তক্ষেপ কামনা

ষ্টাফ রিপোর্টার: গত বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় হাসপাতাল ব্যবস্থপনা কমিটির সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি’র সভাপতিত্বে সিদ্ধান্ত হয় যে, এখন থেকে প্রতিদিন করোনার নমুনা পরীক্ষা বাড়াতে হবে সেই সাথে বাড়াতে হবে ভ্যাকসিনের টিকাদান। মানীয় প্রধানমন্ত্রীও চাচ্ছেন; প্রতিদিন সেটাই হোক। কিন্তু, বুধবারের সভার পার থেকে চুয়াডাঙ্গার স্বাস্থবিভাগ নিজেদের খেয়াল খুশি মতো কাজ করে চলেছেন। এর আগে বিভিন্ন শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে করোনার নমুনা সংগ্রহ এবং টিকা দেয়া হলেও আকর্স্মিকভাবে গত শুক্রবার নমুনা সংগ্রহ এবং টিকাদান কর্মসূচী বন্ধ রাখা হয়। সরকারী নিয়ম বেলা আড়াইটা পর্যন্ত অফিস চলাকালিন সময়। সেই অনুযায়ী বেলা আড়াইটা পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করার নিয়ম। কিন্তু, গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার পর আর কোন নমুনা সংগ্রহের ফর্ম জমা নেয়া হয় নি। শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার পর  নমুনা দিতে আসা অনেকেই হতাশ হয়ে বাড়ী ফিরে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জনবল সংকট দেখিয়ে তারা ১শ’ জনের বেশী নমুনা সংগ্রহ করবে না বলে জানিয়ে দেন। দূর দুরান্ত থেকে করোনার নমুনা দিতে আসা ব্যক্তিরা অসন্তোষ হয়ে ফিরে গেছে।
ঠান্ডা-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে দামুড়হুদা উপজেলার শাহীন গতকাল শনিবার বেলা ১১ টার দিকে নমুনা পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নমুন ভবনের ৩য় তলায় যায়। সেখানে তিনি ফর্ম সংগ্রহ করে পুরণ করতে করতে বেলা সাড়ে ১১ টা বেজে যায়।
শাহীন অভিযোগ করে বলেন, ফর্ম পূরণ করে নমুনা সংগ্রহের ফি জমা দিতে গেলে তারা সাফ জানিয়ে দেয় আজ হবে না। বেলা ১১ টার আগে ফর্ম জমা দিতে হবে। অনেক অনুরোধ করাার পরও তার কথা শোনে নি ল্যাব টেকনিশিয়ান আমজাদুল ইসলাম চঞ্চল।
এ সময় ল্যাব টেকনিশিয়ান বলেন, আগে অনেক করেছি এখন আর করা যাবে না। নমুনা সংগ্রহ না করায় হতাশ হয়ে শাহীনকে বাড়ী ফিরতে হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়া গ্রামের বৃষ্টি খাতুনের ঠান্ডা-শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নমুনা দিতে যায় সদর হাসপাতালের নমুনা ভবনে। সেখানে তিনি ফর্ম পূরণ করেন এবং জমা দিতে গেলে নেয়া হয় নি। হাতশ হয়ে তিনিও বাড়ীতে ফিরে যান। এভাবে শনিবার হাসপাতালে নমুনা দিতে না পেরে অনেকেই বাড়ী ফিরে গেছেন।
সেবাগ্রহীতারা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে সদর হাসপাতালে সেবার মান মুখ থুবড়ে পড়বে। বিষয়টি তারা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি’র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এএসএম ফাতেহ্ আকরাম জানান, জনবল সংকটের কারণে ১০০ জনের বেশী নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে আগে কাজ করতো ৪ জন। কিন্তু, গতকাল থেকে ২ জন মিয়ে নমুনা (স্যাম্পল) সংগ্রহ করছে।
এদিকে, ডা. ফাতেহ্ আকরাম ২ জনের কথা বললেও শনিবার সেখানে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে আগের মতোই সেখানে ৪ জন কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *