শাকিল জামান,সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার বহালগাছী গ্রামের চাতালব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব সাগরকে হাত-পা বাধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে পুরাতন যাদবপুরের মাঠে চোখ-মুখ বাধা অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সাগরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক। এর আগে গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গ্রামের তিন রাস্তা মোড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাগরকে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের মৃত শুকুর আলী বিশ্বাসের ছেলে বর্তমানে শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের বহালগাছি গ্রামের বাসিন্দা চাতালব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব সাগর (৫৫) গ্রামের তিন রাস্তা মোড়ের চায়ের দোকান থেকে গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। রাস্তার থেকে কে বা কারা আব্দুল ওহাব সাগরকে তুলে নিয়ে যায়। রাতে আব্দুল ওহাব সাগর বাড়িতে না ফিরে আসাই পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি শুরু করে। তাকে না পেয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা জানায়, গতকাল রোববার সকাল ৭টার দিকে যাদবপুর গ্রামের কৃষকরা সাগরকে মেহগনি বাগানে হাত-পা বাধা, অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে খবর দেয়। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন।

আব্দুর ওহাব সাগরের স্ত্রী জেসমিন নাহার বুলবুলী জানান, তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, যার কারণে কথা বলতে পারছে না। এলাকাবাসী জানায়, উদ্ধারকালে তার গলাই দাগ ছিলো। সম্ভবত মাফলার পেচিয়ে শ্বাসরোধ করা চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে তিনি মলত্যাগও করেছেন।

এ বিষয়ে সরোজগঞ্জ ক্যাম্প ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আব্দুল আলিম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আব্দুল ওহাব সাগরের সাথে কথা বলা সম্ভব না হওয়ায় ঘটনার সঠিক ধারণা পাওয়া যায়নি। সুস্থ হলে তার সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।