চুয়াডাঙ্গায় নবনির্মিত মডেল মসজিদ হবে গবেষণা,ইসলামী সংস্কৃতি ও জ্ঞান চর্চা কেন্দ্র 

 

আহসান আলম:শুধু নামাজ আদায় নয়,মসজিদ হবে গবেষণা,ইসলামী সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র। হারিয়ে যাওয়া ইসলামের চিরায়ত এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে দৃষ্টিনন্দন ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণ করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার। মুজিববর্ষে ১৭০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হবে।
চুয়াডাঙ্গার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভিতরে নির্মীতব্য মডেল মসজিদটি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এখন চলছে শেষপর্যায়ের ডেকোরেশনের কাজ। কাজ শেষ হতে সময় লাগতে পারে আরও ২ মাস মতো। নির্মাণাধীন মসজিদে একসঙ্গে ১২শ’ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মডেল মসজিদ হবে গবেষণা,ইসলামি সংস্কৃতি ও জ্ঞান চর্চা কেন্দ্র। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সুবিশাল এই মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে নারী ও পুরুষদের পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা,লাইব্রেরী,গবেষণা কেন্দ্র,ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র,পবিত্র কুরআন হেফজ বিভাগ,শিশু শিক্ষা,অতিথিশালা,বিদেশি পর্যটকদের আবাসন,মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা,হজ্জযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ,ইমামদের প্রশিক্ষণ,অটিজম কেন্দ্র,গণশিক্ষা কেন্দ্র,ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র থাকবে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা এবং গাড়ি পার্কিং সুবিধা রাখা হয়েছে।
মডেল মসজিদটিতে দ্বীনি দাওয়া কার্যক্রম ও ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মাদক,সন্ত্রাস,যৌতুক,নারীর প্রতি সহিংসতাসহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি রোধে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা ইসলামী ফাউন্ডেশেনের উপপরিচালক এবিএম রবিউল ইসলাম বলেন,মুসলিম বিশ্বের এই প্রথম কোনো দেশের সরকার প্রধান একসঙ্গে ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ করছে। এর আগে কোনো মুসলিম শাসক বা সরকার প্রধান এক সঙ্গে এতগুলো মসজিদ নির্মাণ করেননি। মডেল মসজিদগুলো শুধু নামাজ পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এখানে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি জ্ঞান অর্জন ও গবেষণা সুযোগ থাকবে,প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। তিনি আরও বলেন,মানুষ যখন ইসলামের সঠিক জ্ঞান পাবে তখন কেউ আর মাদক,সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের সঙ্গে জড়িত হবে না। যৌতুক-নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে,মানুষ অন্যায় থেকে দূরে থাকবে। এক্ষেত্রে মডেল মসজিদগুলোর সঠিক ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন,মডেল মসজিদ নির্মাণ করায় আমরা খুশি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি তিনি যেন ধর্মীয় কাজগুলো বেশি বেশি করতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার আলী রেজা সজল জানান, মসজিদের কাজ প্রায় শেষের পথে। ইতিমধ্যে ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে।
চুয়াডাঙ্গা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল বলেন,আগামী ৩১ মে’র মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য ধর্ম মন্ত্রনালয় থেকে চিঠি দিয়েছে। অন্যান্য কাজ শেষ হলেও শোভাবর্ধণের জন্য রঙীন গ্লাসসহ কিছু সামগ্রী চুয়াডাঙ্গাতে পাওয়া যায় না, সেগুলো ঢাকা থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সেই কারনে কাজ শেষ করতে একটু সময় লাগছে। আশাকরি দ্রুতই কাজ শেষ করা হবে।
এদিকে, সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নবনির্মিত মডেল মসজিদের কাজ প্রায় শেষের পথে। এখন চলছে শিনিশিংয়ের কাজ। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটির কার্যক্রম শেষ হলে চুয়াডাঙ্গাবাসীর অপেক্ষার পালাও শেষ হবে।