সারাদেশে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনে টিকা পাবে ৩২ লাখ মানুষ

২৫ বছরের ঊর্ধ সকলকে আনতে হবে মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র


ষ্টাফ রিপোর্টার: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন। এই ক্যাম্পেইনে ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। নানান ধরণের তথ্য, আলোচনা ও বিভ্রান্তি পাশ কাটিয়ে বিশৃঙ্খলা এড়াতে অবশেষে স্বাস্থ্য বিভাগ আপাতত জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিবন্ধন ছাড়া কাউকে টিকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখছে। ওই সিদ্ধান্ত ধরে আজ শনিবার সারা দেশে শুরু হচ্ছে করোনার (কভিড-১৯) বিশেষ টিকাদান কর্মসূচী। আজ শনিবার এক দিনে সারা দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে তিনটি কেন্দ্রে ২০০ জন করে ৬০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। এরপর সাত দিন এই কর্মসূচী বন্ধ থাকবে। আগামী ১৪ আগষ্ট থেকে পুরো কর্মসূচী আবার শুরু হবে। শনিবার শুধু বয়স্ক, অগ্রাধিকার পাওয়া প্রতিবন্ধী ও অসুস্থদের টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গত বুধবার রাত ১১টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে, এখন যেভাবে টিকা দেওয়া চলছে তা একইভাবে চলতে থাকবে। এই পরিবর্তন শুধু বিশেষ সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির জন্য প্রযোজ্য হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে টিকাদান কেন্দ্র সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত ২৫ বছরের উর্দ্ধে ব্যক্তিদের প্রথম ডোজের টিকা দেয়া হবে। আজ সকাল ৯ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের রিজিয়া খাতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ক্যাম্পেইন উদ্ভোদন করবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ বলেন, ৭ আগষ্ট থেকে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগণকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পেইনে সারাদেশের ৪৬০০টি ইউনিয়নে, ১০৫৪ টি পৌরসভায় এবং সিটি করপোরশেন এলাকার ৪৩৩ টি ওয়ার্ডে ৩২৭০৬ জন টিকাদানকারী এবং ৪৮৪৫৯ জন স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে একযোগে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করা হবে। ১৮ বছর বয়সীদের অনেকের আইডি কার্ড নেই। এতে বিশৃঙ্খলা তৈরী হবে। তাই বয়স ১৮ না করে ২৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যারা আগে রেজিস্ট্রেশন করেছেন তারা যেখানে কেন্দ্র নির্ধারণ করেছেন সেখানে টিকা নেবে। ক্যাম্পেইনের টিকাদান আলাদাভাবে পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সুনির্দিষ্টভাবে প্রদানে পরিকল্পনা করা সম্ভব হয় না। আমরা আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করেছি। দেশে টিকার ঘাটতি থাকলেও সবাইকে টিকা প্রদানে সরকার বদ্ধপরিকর। এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৯৯ হাজারে অধিক মানুষকে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ১ নং ওয়ার্ডে কেদারগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ২ নং ওয়ার্ডে বনানীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ৩নং ওয়ার্ডে আলহেরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ৪ নং ওয়ার্ডে ওল্ড জে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫নং ওয়ার্ডে পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬নং ওয়ার্ডে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ৭নং ওয়ার্ডে সাতগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ৮নং ওয়ার্ডে বেলগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও ৯ নং ওয়ার্ডে রিজিয়া খাতুন প্রভাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২০০ বয়স্ক ও প্রতিবন্ধি নারী পুরুষদের টিকা প্রদান করা হবে। টিকাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে অবশ্যই মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয় পত্র সাথে নিয়ে আসতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৯টি কেন্দ্র ও জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদসহ মোট ৫৪টি কেন্দ্রে টিকা দেয়া হবে। আগামি ১৪ আগস্ট থেকে ১৮ বছরের উর্ধে সকলকে গণটিকা দেয়া শুরু হবে বলে জানানো হয়।
এদিকে আজ শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও শনিবারের পর আগামী ১৪ আগষ্ট থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকাদান কর্মসূচী ফের চলতে থাকবে। এরই মধ্যে নির্দিষ্ট এলাকায় টিকা পাঠানো শুরু হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় পৌঁছে গেছে টিকা।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের আহ্বানে এই কর্মসূচির চূড়ান্ত প্রস্তুতি সভা ভার্চুয়ালী অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শুরু করে সারা দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। ওই সভায় টিকাদানের বিশেষ কর্মসূচির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় এবং যাতে কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয় সে ব্যাপারে নানান ধরণের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সময় যার যার এলাকার প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
এদিকে ১৮ বছরের বেশী বয়সীরা টিকা নেওয়া ছাড়া বাইরে বের হতে পারবেন না মর্মে যে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে, এ ব্যাপারে এক বিবৃতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, এ ধরণের কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোথাও দেওয়া হয় নি।