চুয়াডাঙ্গায় করোনার উপসর্গ নিয়ে ১জনসহ দেশে আরও ৩০ মৃত্যু
৬১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৮জন পজিটিভ, দামুড়হুদার ১৮,সারা দেশে শনাক্ত ১, ৯৭০

ষ্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গায় করোনার উপসর্গ নিয়ে নাসির উদ্দিন নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নাসির উদ্দিন (৫৫) দামুড়হুদার আরামডাঙ্গার মৃত হারেজ উদ্দিনের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফাতেহ্ আকরাম জানান, জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৩ জুন নাসির উদ্দিনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি করা হয়। পরদিন তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গতকাল সোমবার দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তার দাফণকার্য সম্পন্ন করা হবে। নাসির উদ্দিনের নমুনা সংগ্রহের রিপোর্ট এখনও আসে নি বলে জানান ডা. ফাতেহ্ আকরাম।
এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গতকাল সোমবার ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দঁাড়িয়েছে ১২ হাজার ৮৬৯ জন। একই সময়ে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৯৭০ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা দঁাড়াল আট লাখ ১২ হাজার ৯৬০ জন। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অপর দিকে, চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ২৮জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৬ জন, জীবননগর উপজেলার ৪ জন এবং দামুড়হুদা উপজেলার ১৮ জন বাসীন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গার স্বাস্থ্যবিভাগ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দঁাড়ালো ২ হাজার ৯৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছে ৭০ জন।
চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান জানান, গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গার ৪ উপজেলা থেকে ৮০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৫শ’ ৮০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সোমবার ফলাফল এসেছে ৬১ জনের। তার মধ্যে ২৮ জনের করোনা পজেটিভ। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৬ জন, জীবননগর উপজেলার ৪ জন এবং দামুড়হুদা উপজেলার ১৮ জন বাসীন্দা।
এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দঁাড়ালো ২ হাজার ৯৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছে ৭০ জন।
এ পর্যন্ত মোট সুস্থ্য হয়েছে ১ হাজার ৮শ’ ৩৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছে ৭০ জন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে মোট আক্রান্ত আছে ১৮৯ জন। যার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছে ২৪ জন ও হোম আইসোলেশনে আছে ১৬২ জন এবং রেফার আছে ৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সোমবার ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সরকারী ও বেসরকারী ৫১০টি ল্যাবরেটরীতে ১৭ হাজার ৬৬৬টি নমুনা সংগ্রহ ও ১৭ হাজার ১৬৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এখন পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।
২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন এক হাজার ৯১৮ জন। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা সাত লাখ ৫৩ হাজার ২৪০ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ৩০ জনের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব দুইজন ও ষাটোর্র্ধ্ব ২২ জন রয়েছেন।
বিভাগওয়ারী দেখা গেছে, ৩০ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সাতজন, চট্টগ্রামে ১১ জন, রাজশাহীতে দুইজন, খুলনায় তিনজন, সিলেটে চারজন, রংপুরে একজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজনের মৃত্যু হয়।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।