চুয়াডাঙ্গার তিতুদহ ও গড়াইটুপিতে ৪টি রাস্তা পাকাকরন সহ প্রাইমারী স্কুলের উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলী আজগার টগর এমপি

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়াই আওয়ামীলীগ সরকারের লক্ষ্য


তিতুদহ প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ও গড়াইটুপি ইউনিয়নের ৪টি পাকা রাস্তার পাকাকরন সহ ২টি স্কুলের উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১ টা থেকে দুপুর অবধি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব উন্নয়মূলক কাজের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামীলীগ এর সহ-সভাপতি হাজী আলী আজগার টগর।

এসব কাজের মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার স্থানীয়া সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে খাসপাড়া সরকারির প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ, এক কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তিতুদহ সরকারির প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ, ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যায়ে ৬২ আড়িয়া-বড়সলুয়া ১৫শ মিটার পাকা রাস্তার উন্নয়ন, ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যায়ে গড়াইটুপি মেলা-গবরগাড়া জিসিসিআর ভায়া বিত্তিরদাড়ি ১৫শ মিটার রাস্তার উন্নয়ন, ৩৮ লাখ টাকা ব্যায়ে খাসপাড়া-বাগদিয়া জিসিসিআর ভায়া পোকামারী ৫শ থেকে ১ হাজার মিটার রাস্তার উন্নয়ন, ৫৭ লাখ টাকা ব্যায়ে তেঘরি মোড়-তেঘরি স্কুল ৬শ থেকে ১৩শ ৩০ মিটার রাস্তার উন্নয়ন।

উন্নয়কাজের উদ্বোধনকালে হাজী আলী আজগার টগর এমপি বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতার ফলে দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে এবং জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়াই সরকারের লক্ষ্য। পল্লী এলাকায় বসবাসকারী জনগণ যাতে আমাদের সকল অর্জনের সুফল পায়, সে লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে দেশবাসীর ভাগ্য পরিবর্তন করা। সরকার সে লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। যাদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে সে স্বাধীনতা যেনো অর্থবহ হয়। জাতির পিতা শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন এবং তিনিও এ লক্ষ্যে কাজও শুরু করেছিলেন। তবে আমাদের দুর্ভাগ্য, বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পরে বাংলাদেশ সেই আদর্শ ও চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছিলো। দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশ আবারও উন্নয়নের দিকে যাত্রা শুরু হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে কারণ আমরা জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করছি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সারাবিশ্ব যখন থমকে গেছে তখনও আ.লীগ সরকার উন্নয়নের চাকা সচল রেখেছে। কারণ আ.লীগ সরকার দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যউন্নয়নের কথা চিন্তা করে। বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে বিশ্ব যখন বিস্মিত ঠিক তখনও দেশের একশ্রেণির মানুষ দেশ ও বিদেশে নানাভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন পকেটে ভরে রাখার জিনিস না, উন্নয়ন দৃশ্যমান। আ.লীগ সরকার মিথ্যা প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করে না। কাজের বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে যাচ্ছে। তাই চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আ.লীগ সরকারের বিকল্প নেই। নির্বাচনের আগে আপনাদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি এবং যাবো। আমি নিজের জন্য রাজনীতি করি না, মানুষের জন্য এলাকার উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করি। সরকার শুধু স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাটেরই উন্নয়ন করেনি; গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ, কৃষিতে ভর্তুকী, বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিধবাভাতা, বয়স্কভাতা, মাতৃকালীন ভাতা, ভিজিএফ, ভিজিডি, চিকিৎসা ব্যবস্থা, ভিক্ষুক মুক্তকরণ, মানুষের মাথাপিচু আয় বৃদ্ধি, রিজার্ভ বৃদ্ধি, চাকরিজীবিদের সুযোগ সুবিধায় বাস্তবিক উন্নয়ন করেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দর্শনা পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী মুনছুর বাবু,চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ উদ্দৌলা, সদর উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান টিপু,গড়াইটুপি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান রাজু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার নুরুল ইসলাম, আ.লীগ নেতা ফাতুরুজ্জামান, গিয়াস উদ্দিন, আরিফুল ইসলাম, ডাক্তার হাফিজ, ছাদেক আলী, চাঁন, আসাদুজ্জামান রোকন, বাচ্চু সরকার, মহি মেম্বার, লিটন, তিতুদহ ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি শুকুর আলী, আ.লীগ নেতা ফারুক হোসেন, হায়দার বিডিআর, মনিরুজ্জামান মনি, রিপন মিয়া, সাগর, সুইট, আ.আজিজ, যুবলীগের সভাপতি রাশেদ রেজা, ছাত্রলীগ নেতা অপু সরকার প্রমুখ।